মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

গোডাউনেই পচছে ‘সোনালী আঁশ’, ৯ মাসে ধসে পড়েছে কাঁচাপাট রপ্তানি

খুলনা অঞ্চলে কাঁচাপাট রপ্তানি কার্যত ৯ মাস ধরে বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছে পাটখাত। রপ্তানি জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে বাজারে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রপ্তানিকারকদের। এতে গুদামে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ পাট নষ্ট হচ্ছে এবং দিন দিন এর গুণগত মান ও বাজারমূল্য কমে যাচ্ছে।খুলনার দৌলতপুর, খানজাহান আলীসহ আশপাশের এলাকার পাট গুদামগুলোতে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। যে সময় শ্রমিকদের পাট বাছাই, প্রেসিং ও বেইলিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে কাজের অভাবে গোডাউনগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হাজার হাজার মন পাট দীর্ঘদিন মজুদ থাকায় তা ধ্বংসের মুখে পড়ছে।রপ্তানিকারকদের দাবি, কাঁচাপাটকে “শর্তসাপেক্ষ” রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই খুলনা অঞ্চলের রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিভিন্ন অনুমোদন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে রপ্তানি প্রক্রিয়া কার্যত অচল হয়ে আছে। সমস্যার সমাধানে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।গাজী জুট ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী গাজী শরীফুল ইসলাম বলেন, রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপুল পাট গুদামে আটকে আছে। এতে ব্যাংক ঋণের সুদ, গুদাম ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে, ফলে ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন। দ্রুত সমাধান না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মো. আলমগীর খান বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত কাঁচাপাট রপ্তানি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমিক—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন কাঁচাপাট রপ্তানি হলেও চলতি অর্থবছরে মে পর্যন্ত তা কমে মাত্র ১৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে।সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন শ্রমিকরা। প্রায় ২০টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক এখন বেকারত্বের ঝুঁকিতে। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেইলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিঠু বলেন, শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা এখন হুমকির মুখে। দ্রুত রপ্তানি চালু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তারা।এদিকে খুলনা পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরজিৎ সরদার জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।তবে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দাবি, আশ্বাস নয়ন অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পাটখাতকে পুনরায় সচল করতে হবে, নইলে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গোডাউনেই পচছে ‘সোনালী আঁশ’, ৯ মাসে ধসে পড়েছে কাঁচাপাট রপ্তানি