নারী-কন্যা সহিংসতা জাতীয় সংকট: মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন সংবাদ-সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা গভীর জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনে ধর্ষণ, হত্যা, যৌন হয়রানি, আত্মহত্যা, যৌতুক ও বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সংগঠনের পক্ষে সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান।তিনি জানান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার তথ্যের ভিত্তিতে এ সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, কন্যাশিশুরা দলবদ্ধ ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা হত্যা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, কন্যাশিশুদের মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৪২টি, আত্মহত্যা ২০৩টি এবং ধর্ষণের চেষ্টা ১১৭টি নথিভুক্ত হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে হত্যার ঘটনা ৭৫৬টি, ধর্ষণ ৩৭৬টি এবং যৌন হয়রানি ১২৫টি পাওয়া গেছে।বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শৈশবে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি বেশি থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যা ও আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে গৃহিণীরা হত্যা, আত্মহত্যা ও যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার প্রধান শিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টা, আত্মহত্যা, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—দুই জায়গাই নারী ও কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষ্য-প্রমাণের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার সামাজিক প্রবণতা অপরাধীদের উৎসাহিত করছে।বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ।