সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে ওষুধের দাম

দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে ওষুধ উৎপাদন খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাধ্য হয়ে ওষুধের দাম বাড়াতে হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বাপি)।সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে আয়োজিত ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ আশঙ্কার কথা জানান বাপির মহাসচিব হালিমুজ্জামান।তিনি বলেন, ওষুধ শিল্পে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমানে সরকারি হিসাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ প্রায় ১৫ টাকা হলেও জেনারেটর, ইউপিএস ও অন্যান্য ব্যাকআপ ব্যবস্থার কারণে কারখানা পর্যায়ে প্রকৃত ব্যয় বেড়ে প্রায় ৪২ টাকায় দাঁড়িয়েছে।হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে উৎপাদিত ওষুধ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালাতে বাধ্য হয়ে ডিজেল ও ইউপিএসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।তিনি জানান, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানায় ডিজেল ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।বাপির মহাসচিব বলেন, শুধু জ্বালানি নয়, ওষুধের দাম নির্ধারণে কাঁচামাল, সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) এবং মান নিয়ন্ত্রণের ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন, ওষুধের মান নিশ্চিত করতে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। নতুন অমেধ্য শনাক্তকরণে উচ্চমূল্যের রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারের কারণে মান নিয়ন্ত্রণ ব্যয়ও বেড়েছে।এ ছাড়া উৎপাদনের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওষুধের নমুনা সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হয়। ফলে উৎপাদন-পরবর্তী ব্যয়ও বাড়ছে।হালিমুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি ব্যয়ের এই চাপ দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে নিজস্ব মুনাফা থেকে অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তখন উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ে ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। সভায় বিএইচআরএফের সেক্রেটারি মুজাহিদ শুভ বলেন, সংকট সমাধানে ওষুধ খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। সমস্যা চিহ্নিত করা গেলে সমাধানের পথও বের করা সম্ভব।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে ওষুধের দাম