প্রতিদিন ওটস খেলে কী হয়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ওটস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্বাস্থ্যকর খাবার। ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ এই খাদ্য নিয়মিত খেলে শরীরে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটসে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত ক্ষুধা কমে এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণের প্রবণতাও হ্রাস পায়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি উপকারী খাদ্য হতে পারে।ওটসে থাকা বিটা-গ্লুকান নামের বিশেষ ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে। এটি অন্ত্রে জেলির মতো স্তর তৈরি করে খাবারের চলাচল সহজ করে এবং নিয়মিত বাথরুমের অভ্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করে।নিয়মিত ওটস খাওয়া হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।এছাড়া ওটসকে প্রিবায়োটিক খাদ্য হিসেবে ধরা হয়। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হজমশক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগুণের দিক থেকেও ওটস বেশ সমৃদ্ধ। এক-তৃতীয়াংশ কাপ ওটসে প্রায় ১০২ ক্যালোরি, ১৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ফাইবার, ৪ গ্রাম প্রোটিন এবং ২ গ্রাম ফ্যাট থাকে। পাশাপাশি এতে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে।তবে যাদের সিলিয়াক ডিজিজ বা গ্লুটেন সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে গ্লুটেন-ফ্রি ওটস বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ভিজিয়ে বা রান্না করে খেলে ওটসের পুষ্টিগুণ আরও ভালোভাবে পাওয়া যায়।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটস কোনো ‘ম্যাজিক ফুড’ নয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ওটস রাখলে হজম, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য, অন্ত্রের সুস্থতা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।