‘লোভী’ কবিতায় পাঠকের হৃদয় ছুঁয়েছেন তরুণ কবি ইয়াহিয়া আহমেদ
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের তরুণ লেখক ইয়াহিয়া আহমেদ অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চায় নিজের প্রতিভার জানান দিচ্ছেন। ভালোবাসা, প্রকৃতি, মানুষের আবেগ, না-পাওয়ার বেদনা ও জীবনের নানা অনুভূতি সহজ-সরল ভাষায় তুলে ধরে ইতোমধ্যে পাঠকদের নজর কেড়েছেন তিনি।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়াহিয়া আহমেদের লেখা ‘লোভী’ কবিতা পাঠকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, না-পাওয়ার আক্ষেপ ও আত্মঅনুশোচনার মতো অনুভূতিকে আঞ্চলিক ভাষার আবহে তুলে ধরায় কবিতাটি পাঠকের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে।তবে ‘লোভী’ কবিতার জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে ইয়াহিয়ার দীর্ঘদিনের নীরব সাহিত্যচর্চার গল্প। ছোটবেলা থেকেই গল্পের বই পড়ার পাশাপাশি নিজের মতো করে লেখালেখি করতেন তিনি। কিন্তু নিজের লেখা প্রকাশ করার সাহস ছিল না। তাই ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় কাউকে না দেখিয়ে নিজের অনুভূতিগুলো লিখে রাখতেন।পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি শুরু করলেও পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে সংকোচ বোধ করতেন ইয়াহিয়া। লোকলজ্জা ও পরিচিতজনদের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় একটি ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজের লেখা প্রকাশ করতেন। অর্থাৎ প্রকাশ্যে লেখক হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগেই নীরবে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন তিনি।আহমদ ছফার লেখায় অনুপ্রেরণাসাহিত্যপাঠে ইয়াহিয়ার পছন্দের লেখকদের মধ্যে রয়েছেন কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা। বিশেষ করে তাঁর ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ বইটি ইয়াহিয়াকে লেখালেখির প্রতি আরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।তাঁর সাহিত্যচর্চার পথে বড় ভাইতুল্য লেখক S.H. সইকতের উৎসাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি মায়ের সমতুল্য আন্টি রাবেয়া পারভিন মুক্তা তাঁকে প্রকাশ্যে লেখালেখির জন্য উৎসাহ দেন। তাঁর কাছ থেকে ভবিষ্যতে বড় লেখক হওয়ার অনুপ্রেরণাও পেয়েছেন ইয়াহিয়া।‘লোভী’ কবিতায় আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারইয়াহিয়ার ‘লোভী’ কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কথ্য ও আঞ্চলিক ভাষার স্বতন্ত্র ব্যবহার। প্রমিত ভাষার পাশাপাশি স্থানীয় শব্দ ও বাক্যরীতি কবিতাটিকে আরও সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলেছে।কবিতায় প্রকৃতির বিভিন্ন উপমাও ব্যবহার করেছেন তিনি। লজ্জাবতী গাছ, কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফে সূর্যের আলো কিংবা বাতাসে দোলা কৃষ্ণচূড়ার মতো চিত্রকল্পের মাধ্যমে নিজের আবেগকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।এর আগে ইয়াহিয়ার ‘চিত্তরঞ্জনের ঘাট’ ও ‘উল্কাপাত’ কবিতাও পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর একের পর এক লেখা পাঠকের কাছে পৌঁছানোয় নবীন এই লেখককে ঘিরে সাহিত্যপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে।কবিতার পর এবার গানসাহিত্যচর্চার পাশাপাশি এবার গান লেখার ক্ষেত্রেও নিজের লেখা নিয়ে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইয়াহিয়া আহমেদ। তিনি জানান, খুব শিগগিরই তাঁর লেখা একটি গান প্রকাশ হতে যাচ্ছে।ইয়াহিয়া বলেন, খুব শিগগির আমার লেখা একটি গান রিলিজ হবে। একজন নব্বইয়ের দশকের নামকরা শিল্পীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, দর্শক-শ্রোতাদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।তিনি জানান, গানটির দুটি লাইন ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশের পর ওই শিল্পীর একজন প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর গানটি প্রকাশ ও চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণিতে থেমে গেলেও বই পড়া ও লেখালেখির অভ্যাস ছাড়েননি ইয়াহিয়া। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সময় পেলেই বই পড়েন এবং নিজের অনুভূতিকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করেন।হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইয়াহিয়া আহমেদের বাবা মোহাম্মদ শওকত আকবর এবং মা শারমিন আক্তার শিরিন।ছোটবেলার বইপড়ার অভ্যাস, ব্যক্তিগত ডায়েরিতে গোপনে লেখালেখি, পরিচয় গোপন রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা প্রকাশ এবং শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয়ে প্রকাশ্যে আসা-ইয়াহিয়ার সাহিত্যযাত্রা মূলত দীর্ঘদিনের নীরব সাধনার ফল।
‘লোভী’ কবিতার পাঠকপ্রিয়তা সেই নীরব সাহিত্যযাত্রারই একটি প্রকাশ্য সূচনা। সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত পাঠাভ্যাস ও লেখালেখির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও পরিণত সাহিত্য উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন এই নবীন লেখক।