বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মান্নত করা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের বিধান

মান্নত হলো কোনো উদ্দেশ্য পূরণ বা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় স্বেচ্ছায় কোনো ইবাদত বা দানের প্রতিজ্ঞা করা। ইসলামি শরিয়তে মান্নত করা জায়েজ হলেও, হাদিসে তা করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, মান্নত সাধারণত দুই ধরনের। প্রথমত, কোনো শর্ত ছাড়াই মান্নত করা। যেমন দুই রাকাত নামাজ পড়া বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সদকা করার মান্নত করা। এ ধরনের মান্নত বৈধ।দ্বিতীয়ত, শর্তযুক্ত মান্নত। যেমন কোনো কাজ সফল হলে বা কোনো আশা পূরণ হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দান করার প্রতিজ্ঞা করা। এ ধরনের মান্নত বৈধ হলেও তা করা উত্তম নয় বলে আলেমরা মনে করেন।হাদিসে এসেছে, মান্নত আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির পরিবর্তন করতে পারে না। বরং এটি অনেক সময় এমন সম্পদ বের করে আনার মাধ্যম হয়, যা মানুষ সাধারণত খরচ করতে চায় না। (সহিহ মুসলিম)ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় মান্নত করার চেয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী আগেই দান-সদকা করা বেশি উত্তম। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করা অধিক ফজিলতপূর্ণ আমল।মান্নত করলে তা পূরণ করা ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা মান্নত পূর্ণ করে।’ (সুরা দাহর: ৭)তবে কোনো গুনাহের কাজের মান্নত করা বৈধ নয়। এমন মান্নত পূরণ করাও হারাম। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের মান্নত করে, সে যেন তা পালন না করে।’ (সহিহ বুখারি)মান্নত ভঙ্গ হলে শপথ ভঙ্গের মতো কাফফারা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে দশজন অভাবীকে খাবার খাওয়ানো বা কাপড় দেওয়া, অথবা একজন দাস মুক্ত করা; আর তা সম্ভব না হলে তিন দিন রোজা রাখা। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম মান্নতকে বৈধ রেখেছে, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে তা থেকে নিরুৎসাহিত করেছেন। শর্ত দিয়ে মান্নত করার চেয়ে আল্লাহর পথে দান-সদকা করে নিজের প্রয়োজনের জন্য দোয়া করাই উত্তম।

মান্নত করা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের বিধান