মহানবী (সা.) যে কারণে মিসওয়াকের পরামর্শ দিয়েছেন
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দাঁতের পরিচ্ছন্নতায় মিসওয়াকের গুরুত্ব আবারও আলোচনায় এসেছে।পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এসডোর এক গবেষণায় দেশের বাজারের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে নানা ধরনের সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে নিরাপদ জীবনযাপনে প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের যত্ন নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।ইসলামী ঐতিহ্যে মিসওয়াক পরিচ্ছন্নতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। গাছের ডাল বা বিশেষ কাঠি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করাকে মিসওয়াক বলা হয়।হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিসওয়াকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, “মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৮৯)মিসওয়াকের গুরুত্বমিসওয়াক শুধু দাঁত পরিষ্কারের মাধ্যম নয়, বরং পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার অংশ হিসেবেও বিবেচিত। হাদিসে এটিকে স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নামাজের আগে মিসওয়াকের ব্যাপারে তিনি উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৭)কখন মিসওয়াক করা ভালো?মিসওয়াক করার উত্তম সময়গুলোর মধ্যে রয়েছে—অজুর সময়নামাজের আগেকোরআন তেলাওয়াতের আগেঘুম থেকে ওঠার পরঘুমানোর আগেমুখে দুর্গন্ধ হলেখাবারের পরকোন ডাল দিয়ে মিসওয়াক উত্তম?তিক্ত, কাঁচা ও নরম গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা উত্তম বলে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। জয়তুন ও খেজুরগাছের ডালের কথাও পাওয়া যায়।মিসওয়াকের সঠিক পদ্ধতিমিসওয়াক খুব শক্ত বা মোটা না হয়ে নরম হওয়া ভালো। সাধারণত আঙুলের মতো মোটা ও প্রায় এক বিঘত পরিমাণ লম্বা মিসওয়াক ব্যবহার করা হয়।সুন্নত পদ্ধতি অনুযায়ী, ডান দিক থেকে শুরু করে ওপর থেকে নিচের দিকে মিসওয়াক করা উত্তম। দাঁতের পাশাপাশি মাড়ি ও জিহ্বার পরিচ্ছন্নতার দিকেও খেয়াল রাখা হয়।দাঁতের যত্নে আধুনিক পদ্ধতির পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।