আল্লাহর আদেশ অমান্য করে বানরে পরিণত হয়েছিল যে জাতি
আল্লাহর বিধান অমান্য ও সীমালঙ্ঘনের কারণে বনি ইসরাইলের একদল মানুষ কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল। কোরআনে বর্ণিত সেই ঘটনার মধ্যে রয়েছে শনিবারের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং আল্লাহর আদেশকে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার পরিণতি।মুসা (আ.)-এর যুগের পর বনি ইসরাইলের একটি দল সমুদ্র উপকূলবর্তী আয়লা জনপদে বসবাস করত। মাছ শিকার ছিল তাদের প্রধান জীবিকা। তবে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী শনিবার মাছ ধরা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। এ দিনটি তারা ইবাদত ও আল্লাহর স্মরণে কাটাত।আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করেছিলেন। শনিবারে সাগরের মাছগুলো তীরের কাছে প্রচুর পরিমাণে ভেসে আসত, আর অন্য দিনগুলোতে তা দেখা যেত না। সহজে মাছ পাওয়ার সুযোগ তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা ছিল।কিন্তু একসময় তারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মাছ ধরার কৌশল বের করে। জুমার দিন তারা সাগরের পাশে গর্ত ও নালা তৈরি করত। শনিবারে মাছ পানির সঙ্গে সেই গর্তে ঢুকে পড়লে তারা পরে তা ধরে নিত। এভাবে তারা বাহ্যিকভাবে নিয়ম না ভেঙে আল্লাহর বিধান অমান্য করার চেষ্টা করেছিল।বিশ্বাসী লোকেরা তাদের এ কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তারা সতর্ক করে দেয়, আল্লাহর বিধানের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ রক্ষা পাবে না। কিন্তু তারা নিজেদের কৌশল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে এবং অবাধ্যতায় অটল থাকে।কোরআনে সূরা আরাফের ১৬৩ থেকে ১৬৬ নম্বর আয়াতে এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যারা সীমালঙ্ঘন করেছিল এবং উপদেশ ভুলে গিয়েছিল, তাদের ওপর কঠোর শাস্তি নেমে আসে।আল্লাহ বলেন, তোমরা হয়ে যাও ঘৃণিত বানর। (সূরা বাকারা: ৬৫)তাফসিরকারদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের চেহারা বিকৃত করে বানর ও শূকরের রূপ দেওয়া হয়েছিল। তারা মানুষের মতো অনুভূতি রাখলেও কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছিল। তারা নিজেদের অপমান ও অনুতাপ প্রকাশ করেছিল।বর্ণনায় এসেছে, তাদের স্বজনরা তাদের চিনতে পারত এবং তারা অনুশোচনায় কাঁদত। তবে এই শাস্তি ছিল তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের ফল।রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক সাহাবি জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সময়ের বানর-শূকর কি সেই রূপান্তরিত জাতির বংশধর? হাদিসে এসেছে, তিনি জানান আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে শাস্তি দেন, তখন তাদের বংশধর পৃথিবীতে অবশিষ্ট রাখেন না। (সহিহ মুসলিম)
এই ঘটনা মানুষের জন্য শিক্ষা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে আল্লাহর বিধানকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা নয়, বরং আনুগত্য ও সততার পথেই সফলতা রয়েছে।