শনিবার, ০২ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

ডলফিন দিয়ে মার্কিন রণতরিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান!

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত অচল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা দিতে ওমান সাগরে নজরদারি ও অবরোধ জোরদার করেছে। অন্যদিকে, ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছে। পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। পেন্টাগনের নির্দেশে সেখানে বাড়ানো হয়েছে নৌবাহিনীর উপস্থিতি। এতে করে তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য হামলার শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।এ অবস্থায় পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে তারা অপ্রচলিত কৌশল ব্যবহার করতে পারে যার মধ্যে রয়েছে ডলফিনকে কাজে লাগিয়ে হামলা চালানো।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান অতীতে সামুদ্রিক প্রাণীকে সামরিক কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। ২০০০ সালে সোভিয়েত যুগের প্রশিক্ষিত ডলফিন সংগ্রহ করে তাদের হারপুন ও মাইন বহনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, একই ধরনের কৌশল পুনরায় ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আত্মঘাতী ডলফিন ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা হবে এক নজিরবিহীন সামরিক কৌশল। এর পাশাপাশি, ইরান সাবমেরিন মোতায়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছে।ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড আইআরজিসি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রেখেছে বলে জানা গেছে। ফলে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলো এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এই অবরোধকে শুধু কৌশলগত চাপ নয়, বরং সরাসরি যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা দ্রুত সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

ডলফিন দিয়ে মার্কিন রণতরিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান!