শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

থাপ্পড়ের ঘটনায় আইনের কথা ইমাম রঈস উদ্দিন হত্যায় সেই বিবেক কোথায় তাহেরি

একটি ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদ, অথচ আরেক ঘটনায় কথিত মব সহিংসতায় একজন ইমাম নিহত হওয়ার পর নীরবতা—সমাজের এমন দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি। তাঁর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।সম্প্রতি এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং এর জেরে এক বডিবিল্ডারের থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে অনেকে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাহেরির বক্তব্যের আলোকে প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের ঘটনায় আইনের শাসনের কথা বলা হলেও ইমাম মাওলানা রঈস উদ্দিন কথিত মব সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় একইভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল কি না।আইনের শাসন কি সবার জন্য সমান?অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়ার অধিকার কারও নেই। কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী বিচার হওয়াই ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক পথ।তবে একটি ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদ করা হলেও অন্য ঘটনায় জনতার হাতে সহিংসতার শিকার হয়ে কেউ নিহত হলে নীরব থাকা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অভিযোগের ধরন, ব্যক্তির পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী ন্যায়বিচারের নীতি বদলে যাওয়া উচিত নয়।তাহেরির বক্তব্যে মূলত এই প্রশ্নই গুরুত্ব পেয়েছে অন্যায়ের প্রতিবাদে মানুষের অবস্থান কি ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হয়?মব সহিংসতা কখনো ন্যায়বিচার নয়জনতার আবেগ বা ক্ষোভের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা, অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।উন্মত্ত জনতার হাতে বিচার তুলে দিলে নিরপরাধ মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই অপরাধের অভিযোগের বিচার আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পাশাপাশি মব সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বানন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি এবং সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।ইমাম রঈস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ সামনে এনে তাহেরির বক্তব্যে যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে, তা হলো আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে সবার জন্য একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না।ন্যায়বিচার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য আলাদা হতে পারে না। অভিযোগের বিচার করবে আইন ও আদালত, জনতা নয়। আইনের শাসন কার্যকর করতে হলে অপরাধের প্রতিবাদ যেমন করতে হবে, তেমনি মব সহিংসতার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে।

থাপ্পড়ের ঘটনায় আইনের কথা ইমাম রঈস উদ্দিন হত্যায় সেই বিবেক কোথায় তাহেরি