মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

কুবির প্রধান ফটকে আর্জেন্টিনার পতাকা, বিধিমালা লঙ্ঘন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রধান ফটকের ওয়াচ টাওয়ারে বাংলাদেশের পতাকার পরিবর্তে উড়ছে লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার পতাকা। একইসঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হলের ভবনেও শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ পছন্দের ফুটবল দলের পতাকা টাঙিয়েছেন।জুন মাসের শুরুতে বিশ্বকাপ উন্মাদনার অংশ হিসেবে কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারের চূড়ায় উঠে প্রিয় দলের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন যা এখনও অপসারণ করা হয়নি। এর জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের পূর্বানুমতি নেননি বলে জানা গেছে।আইনগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০০৬ সালে প্রণীত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও এর অধীনে ২০১৩ সালে প্রণীত স্ট্যাটিউট বা বিধিতে ভিনদেশি পতাকা উত্তোলন বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ নেই। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় আইনে এই বিষয়ে কিছু বলা নাই সুতরাং এক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রের বিধিবদ্ধ আইন কার্যকর হবে।বাংলাদেশ পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী কেবলমাত্র বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাস ও রাষ্ট্রীয় সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীবর্গ সফরকালীন সময়ে তাঁদের নিজস্ব পতাকা (না থাকলে জাতীয় পতাকা) তাঁদের অফিসিয়াল বাসভবন ও মোটর গাড়িতে উত্তোলন করতে পারবেন। এছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা বিশেষ রাষ্ট্রীয় মেগা-ইভেন্ট উপলক্ষে যদি কোনো সরকারি ভবন বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি পতাকা ওড়াতে হয়, তবে তার জন্য সরকারের (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) বিশেষ অনুমোদন আবশ্যক।​যদি কোনো বিশেষ কারণে বাংলাদেশের পতাকার সাথে অন্য দেশের পতাকা ওড়াতেই হয়, তবে বিধিমালা অনুযায়ী অন্য দেশের পতাকার চেয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সবসময় সম্মানের দিক থেকে শীর্ষে এবং প্রধান স্থানে রাখতে হবে। ভবনের দিকে মুখ করে দাঁড়ালে, ডানদিকের শেষ প্রান্তে (সম্মানের দিক থেকে প্রথম স্থান) অবশ্যই বাংলাদেশের পতাকা থাকবে। অন্য দেশের পতাকা থাকবে বামদিকে। এছাড়াও কোনো অবস্থাতেই বিদেশি পতাকার আকার বাংলাদেশের পতাকার চেয়ে বড় হতে পারবে না এবং বিদেশি পতাকার খুঁটি বাংলাদেশের পতাকার খুঁটির চেয়ে উঁচুতে স্থাপন করা যাবে না। সমান্তরাল খুঁটি হলে দুটিই সমান উচ্চতায় থাকবে, তবে স্থানগত কারণে বাংলাদেশ প্রটোকল অগ্রাধিকার পাবে।​ফুটবল বিশ্বকাপ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলে ভিনদেশী পতাকা ওড়ানোর একটি সামাজিক প্রবণতা দেখা যায়। ২০১৪ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ‘পতাকা বিধিমালা ১৯৭২’ না মেনে যত্রতত্র ভিনদেশী পতাকা ওড়ানো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পতাকার অবমাননার শামিল।তবে,কোনো আন্তর্জাতিক উৎসব বা বিশেষ প্রোগ্রাম থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এম্বলেম অর্ডার-১৯৭২’অনুযায়ী জাতীয় পতাকা বা পতাকা বিধিমালার যেকোনো ধারা লঙ্ঘন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, “ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা থাকাটাই স্বাভাবিক। আপনি যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন, তাদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণাও চালাতে পারেন, এটি সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অন্য দেশের পতাকা টাঙানো হলো অন্যরাও যদি তাদের পছন্দের দেশের পতাকা এভাবে টাঙায় তাহলে ফটকের সৌন্দর্য নষ্ট হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ হলো প্রধান ফটক। এই স্থানের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। ব্যক্তিগত পছন্দ বা সমর্থনের প্রকাশ এমনভাবে হওয়া উচিত নয় যাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়।”এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, পতাকা টাঙানোর আগে প্রশাসন থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমরা এখন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

কুবির প্রধান ফটকে আর্জেন্টিনার পতাকা, বিধিমালা লঙ্ঘন