মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

অ্যাসিডিটি ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? এই পেটব্যথা বিপদের সংকেত

খাওয়ার পর ওপরের পেটে জ্বালা, অস্বস্তি বা ব্যথাকে অনেকেই গ্যাস কিংবা অ্যাসিডিটি বলে এড়িয়ে যান। সাধারণ বদহজমেও এমন উপসর্গ হতে পারে। তবে ব্যথা হঠাৎ তীব্র হলে, দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। কারণ এমন ব্যথা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের লক্ষণও হতে পারে।নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউটস অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (AIIMS) গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হিউম্যান নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান ডা. প্রমোদ গর্গও তীব্র ও স্থায়ী ওপরের পেটের ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।প্যানক্রিয়াটাইটিস কী?অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস পেটের পেছনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করে এবং ইনসুলিনসহ বিভিন্ন হরমোনের মাধ্যমে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে তাকে প্যানক্রিয়াটাইটিস বলা হয়। হঠাৎ শুরু হলে এটি অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং দীর্ঘদিন ধরে চললে ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস হিসেবে পরিচিত।অ্যাসিডিটির সঙ্গে পার্থক্যঅ্যাসিডিটি বা বদহজমে সাধারণত পেট ফাঁপা, ঢেঁকুর, বুক-পেটে জ্বালাপোড়া কিংবা অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে প্যানক্রিয়াটাইটিসে ওপরের পেটের তীব্র ব্যথা বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এ ব্যথা অনেক সময় পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।তাই শুধু ব্যথার স্থান দেখে নিজে থেকে সেটিকে অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যথা অস্বাভাবিকভাবে তীব্র হলে বা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেনপ্যানক্রিয়াটাইটিসে হঠাৎ অথবা ধীরে ধীরে ওপরের পেটে ব্যথা শুরু হতে পারে। এ ব্যথা কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে— তীব্র বা ক্রমশ বাড়তে থাকা ওপরের পেটের ব্যথা পিঠে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা বমি বা বমি বমি ভাব জ্বর বা কাঁপুনি হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া পেট ফুলে যাওয়া বা স্পর্শে ব্যথা শ্বাসকষ্ট চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর প্যানক্রিয়াটাইটিসে ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গও আক্রান্ত হতে পারে।কেন হয় প্যানক্রিয়াটাইটিস?প্যানক্রিয়াটাইটিসের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। পিত্তথলিতে পাথর এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ পরিচিত কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি থাকা, কিছু ওষুধ, পেটে আঘাত এবং কিছু বংশগত বা শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও এ রোগের সম্পর্ক থাকতে পারে।পিত্তথলির পাথর পিত্তনালি বা অগ্ন্যাশয়ের নালিতে বাধা তৈরি করলেও অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হতে পারে। তাই প্যানক্রিয়াটাইটিস শনাক্ত হলে শুধু ব্যথা কমানো নয়, রোগটির কারণ খুঁজে বের করাও গুরুত্বপূর্ণ।গুরুতর হলে অন্য অঙ্গেও প্রভাবগুরুতর অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিসে শরীরে ব্যাপক প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এতে ফুসফুস, কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতাও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।এ কারণেই তীব্র পেটব্যথাকে দিনের পর দিন গ্যাস বা অ্যাসিডিটি ভেবে ফেলে রাখা উচিত নয়।কীভাবে শনাক্ত করেন চিকিৎসক?শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে প্যানক্রিয়াটাইটিস নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা এবং বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষা করতে পারেন।পিত্তথলিতে পাথর শনাক্তে আল্ট্রাসাউন্ড উপকারী হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী CT স্ক্যান বা MRI-এর প্রয়োজনও হতে পারে।চিকিৎসা কী?অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিসের চিকিৎসা রোগের তীব্রতা ও কারণের ওপর নির্ভর করে। হাসপাতালে প্রয়োজন অনুযায়ী শিরায় তরল, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি সহায়তা এবং বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। গুরুতর অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে।কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?হঠাৎ তীব্র ওপরের পেটব্যথা শুরু হলে, বিশেষ করে ব্যথা পিঠে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে বমি, জ্বর, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা শ্বাসকষ্ট থাকলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সব পেটব্যথাই প্যানক্রিয়াটাইটিস নয়, আবার অ্যাসিডিটিও খুব সাধারণ সমস্যা। তবে ব্যথার ধরন অস্বাভাবিক হলে, তীব্রতা বেশি হলে বা কমার পরিবর্তে বাড়তে থাকলে সেটিকে শুধু গ্যাস বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

অ্যাসিডিটি ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? এই পেটব্যথা বিপদের সংকেত