এডিপি টাকায় ব্যক্তিগত বাঁশঝাড়ে গার্ড ওয়াল? সৈয়দপুরে অনিয়মের অভিযোগ
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় সরকারি এডিবি বরাদ্দের অর্থে একজন ব্যক্তির বাঁশঝাড় রক্ষায় গার্ড ওয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ কমিশনের বিনিময়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে।উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী বুড়ির বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে প্রায় ৩ শতক জমিতে হাজী সবুর আলী সরকারের একটি বাঁশঝাড় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই বাঁশঝাড়ের পাশেই পুকুর থাকায় কিছু অংশ আগে থেকেই ধসে পড়েছিল। এখন সেখানে প্রায় ৩০ ফুট চওড়া ও ১০০ ফুট লম্বা বাঁশঝাড় রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, বাঁশঝাড় রক্ষার জন্য আবেদন করার পর এডিবি থেকে ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং রাস্তা থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে পুকুরপাড়ে গার্ড ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অনেক জায়গায় রাস্তার পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত থাকলেও সেখানে কোনো কাজ না করে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত জমিতে সরকারি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যা অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।তবে বাঁশঝাড়ের মালিক হাজী সবুর আলী সরকার দাবি করেন, এটি ব্যক্তিগত নয় বরং রাস্তা রক্ষার প্রকল্প। তার ভাষায়, পুকুরের কারণে বাঁশঝাড় ধসে গেলে রাস্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাই গার্ড ওয়াল করা হচ্ছে। তিনি নিজ খরচে পুকুর ভরাটের কথাও জানান।উপজেলা প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা বলেন, প্রকল্পের স্থান সরেজমিনে পুরোপুরি দেখা হয়নি, তবে রাজনৈতিক সুপারিশে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যক্তির সুপারিশেই বরাদ্দ নিশ্চিত হয়।এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, প্রকৌশল দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে, তবে স্থান নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।সাইড অফিসার শওকত কবির জানান, রাস্তা থেকে দূরে হলেও পুকুরের ঝুঁকির কারণে গার্ড ওয়াল নির্মাণ জরুরি মনে হওয়ায় কাজ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য জড়িত থাকতে পারে। তারা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।