অনলাইনে ওষুধ কেনার আগে ৫ বিষয় যাচাই করুন
স্মার্টফোনে কয়েকটি ক্লিকেই এখন ঘরে বসে ওষুধ কেনা যায়। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ বাছাই করে বাড়িতে পৌঁছে পাওয়ার সুবিধায় অনলাইন ওষুধ কেনার প্রবণতাও বাড়ছে। নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন বা বাইরে গিয়ে ওষুধ কেনা যাদের জন্য কঠিন, তাদের জন্য এটি সময় ও শ্রম বাঁচানোর সুবিধাজনক উপায়।তবে ওষুধ সাধারণ পণ্যের মতো নয়। ভুল ওষুধ, ভুল মাত্রা, নকল বা নিম্নমানের ওষুধ এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা ওষুধ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অনলাইনে ওষুধ কেনার সময় শুধু দাম বা ছাড় নয়, আরও কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।১. ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে ওষুধের নাম ও মাত্রা মিলিয়ে নিনঅনলাইনে ওষুধ কেনার আগে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে কেনাকাটার তালিকা মিলিয়ে দেখুন। ওষুধের নাম, সক্রিয় উপাদান, মাত্রা ও পরিমাণ ঠিক আছে কি না যাচাই করুন।অনলাইন বিক্রেতা বিকল্প কোনো ব্র্যান্ড দেখালে নিজের সিদ্ধান্তে সেটি গ্রহণ না করে চিকিৎসক বা ঔষধবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। বিশেষ করে ব্যবস্থাপত্রনির্ভর ওষুধের নাম বা মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পরিবর্তন করা উচিত নয়।২. অস্বাভাবিক কম দাম দেখলে সতর্ক হোনঅনলাইনে বেশি ছাড় দেখলেই ওষুধ কেনা ঠিক নয়। কম দাম মানেই নকল—এমন নয়; বৈধ বিক্রেতারাও বিভিন্ন সময়ে ছাড় দিতে পারেন। তবে অস্বাভাবিক কম দামের সঙ্গে যদি বিক্রেতার পরিচয়, ওষুধের উৎস বা অনুমোদন নিয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।কেনার আগে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত উৎস, মেয়াদের তারিখ এবং ওষুধের মোড়কের তথ্য যাচাই করুন।৩. ওষুধ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে দেখুনকিছু ওষুধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। বিশেষ করে তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখা হয়েছে কি না জানা গুরুত্বপূর্ণ।অনুমোদনহীন উৎস থেকে ওষুধ কিনলে সেটি কোথায় তৈরি বা কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হতে পারে।৪. কিউআর কোড বা বারকোড থাকলে যাচাই করুনওষুধের মোড়কে কিউআর কোড বা বারকোড থাকলে প্রস্তুতকারকের দেওয়া যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে উৎপাদন, ব্যাচ বা মেয়াদের মতো তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকতে পারে।তবে শুধু কিউআর কোড বা বারকোড থাকলেই ওষুধ আসল—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। মোড়কের অন্যান্য তথ্যও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।৫. ওষুধ হাতে পাওয়ার পরও পরীক্ষা করুনওষুধ হাতে পাওয়ার পর অনলাইন চালান বা বিলের সঙ্গে ওষুধের তথ্য মিলিয়ে নিন। নাম, সক্রিয় উপাদান, মাত্রা, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদের তারিখ এবং পরিমাণ ঠিক আছে কি না দেখুন।এ ছাড়া বাইরের বাক্স ও ভেতরের পাতার তথ্য মিলিয়ে নিন। মোড়ক ছেঁড়া, ছাপ অস্পষ্ট, বানান ভুল, মেয়াদের তারিখ অনুপস্থিত কিংবা ওষুধের রং-আকৃতি অস্বাভাবিক মনে হলে তা ব্যবহার না করাই নিরাপদ।অনলাইন ওষুধালয় নিরাপদ কি না বুঝবেন যেভাবেকোনো অনলাইন ওষুধালয়ের ওয়েবসাইট সুন্দর বা দাম কম হলেই সেটিকে নির্ভরযোগ্য মনে করা উচিত নয়। ব্যবস্থাপত্রনির্ভর ওষুধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্র চাওয়া, বিক্রেতার বাস্তব ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য থাকা এবং প্রয়োজনে যোগ্য ঔষধবিজ্ঞানীর পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ব্যবস্থাপত্রনির্ভর ওষুধ বিক্রি, লাইসেন্স বা অনুমোদনের তথ্য না থাকা, অস্বাভাবিক কম দাম, ক্ষতিগ্রস্ত মোড়ক কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাঠানো এসব সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।নকল ও নিম্নমানের ওষুধে কেন ঝুঁকিনকল বা নিম্নমানের ওষুধে প্রয়োজনীয় সক্রিয় উপাদান কম-বেশি থাকতে পারে। কখনো ভুল বা ক্ষতিকর উপাদানও থাকতে পারে। এতে রোগের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য ওষুধের সঙ্গে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।তাই অনলাইনে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।কোনো ওষুধের মোড়ক, নাম, মাত্রা, মেয়াদ বা সংরক্ষণ নিয়ে সন্দেহ হলে সেটি সেবনের আগে চিকিৎসক বা যোগ্য ঔষধবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিন।