বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে পেট্রোল ও অকটেনের দামে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পেট্রোলের দাম ২৩ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে। সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
তবে এই সময়ের জ্বালানি মূল্যনীতিকে শুধু ‘কোন সময়ে কত টাকা বেড়েছে’—এই হিসাবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, একাধিক দফায় মূল্য সমন্বয় এবং কয়েক বছর দাম অপরিবর্তিত থাকার বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়।
এরপর ২০০৬ সালের শুরুতে পেট্রোলের দাম ৫৬ টাকা এবং অকটেন ৫৮ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের শুরু পর্যন্ত পেট্রোল ৩৩ টাকা বা প্রায় ১৪৩ শতাংশ এবং অকটেন ৩৩ টাকা বা প্রায় ১৩২ শতাংশ বেড়েছিল।
পরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও মূল্য কমানো হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে পেট্রোল ৭৪ টাকা এবং অকটেন ৭৭ টাকায় নেমে আসে।
পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন দফায় দাম সমন্বয় করা হয়। ২০১৩ সালে পেট্রোল ৯৬ টাকা এবং অকটেন ৯৯ টাকা পর্যন্ত ওঠে। পরে ২০১৬ সালের এপ্রিলে তা কমিয়ে পেট্রোল ৮৬ টাকা ও অকটেন ৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ে। আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের মধ্যে ওই বছরের ৫ আগস্ট পেট্রোলের দাম এক লাফে ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা এবং অকটেন ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়।
পরে ২৯ আগস্ট দুই জ্বালানির দাম লিটারে ৫ টাকা করে কমানো হয়। পেট্রোল দাঁড়ায় ১২৫ টাকা এবং অকটেন ১৩০ টাকা।
২০২৬ সালের শুরুতে ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোলের দাম ছিল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা। এপ্রিলে পেট্রোল ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়।
জুনে আবার পেট্রোল ও অকটেনের দাম ৫ টাকা করে বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৪০ ও ১৪৫ টাকা করা হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই দরই বহাল ছিল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
একই সময়ে অকটেনের দাম ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে বৃদ্ধি ১৪০ টাকা বা প্রায় ৫৬০ শতাংশ।
তবে ২৫ বছরের এই হিসাবের মাঝখানে ছিল বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, মূল্য কমানোর ঘটনাও এবং ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দীর্ঘ মূল্যস্থিতি। তাই জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তনের পূর্ণ চিত্র বুঝতে শুরু ও শেষের দাম ছাড়াও প্রতিটি সময়ের আন্তর্জাতিক বাজার এবং মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে পেট্রোল ও অকটেনের দামে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পেট্রোলের দাম ২৩ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে। সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
তবে এই সময়ের জ্বালানি মূল্যনীতিকে শুধু ‘কোন সময়ে কত টাকা বেড়েছে’—এই হিসাবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, একাধিক দফায় মূল্য সমন্বয় এবং কয়েক বছর দাম অপরিবর্তিত থাকার বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়।
এরপর ২০০৬ সালের শুরুতে পেট্রোলের দাম ৫৬ টাকা এবং অকটেন ৫৮ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের শুরু পর্যন্ত পেট্রোল ৩৩ টাকা বা প্রায় ১৪৩ শতাংশ এবং অকটেন ৩৩ টাকা বা প্রায় ১৩২ শতাংশ বেড়েছিল।
পরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও মূল্য কমানো হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে পেট্রোল ৭৪ টাকা এবং অকটেন ৭৭ টাকায় নেমে আসে।
পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন দফায় দাম সমন্বয় করা হয়। ২০১৩ সালে পেট্রোল ৯৬ টাকা এবং অকটেন ৯৯ টাকা পর্যন্ত ওঠে। পরে ২০১৬ সালের এপ্রিলে তা কমিয়ে পেট্রোল ৮৬ টাকা ও অকটেন ৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ে। আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের মধ্যে ওই বছরের ৫ আগস্ট পেট্রোলের দাম এক লাফে ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা এবং অকটেন ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়।
পরে ২৯ আগস্ট দুই জ্বালানির দাম লিটারে ৫ টাকা করে কমানো হয়। পেট্রোল দাঁড়ায় ১২৫ টাকা এবং অকটেন ১৩০ টাকা।
২০২৬ সালের শুরুতে ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোলের দাম ছিল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা। এপ্রিলে পেট্রোল ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়।
জুনে আবার পেট্রোল ও অকটেনের দাম ৫ টাকা করে বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৪০ ও ১৪৫ টাকা করা হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই দরই বহাল ছিল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
একই সময়ে অকটেনের দাম ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে বৃদ্ধি ১৪০ টাকা বা প্রায় ৫৬০ শতাংশ।
তবে ২৫ বছরের এই হিসাবের মাঝখানে ছিল বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, মূল্য কমানোর ঘটনাও এবং ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দীর্ঘ মূল্যস্থিতি। তাই জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তনের পূর্ণ চিত্র বুঝতে শুরু ও শেষের দাম ছাড়াও প্রতিটি সময়ের আন্তর্জাতিক বাজার এবং মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
