বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

তালিকা তৈরির উদ্যোগ সরকারের

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনো ধরনের উসকানি বা হঠকারী সিদ্ধান্তে পা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছে ডিসেম্বর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দাবি, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দলটির আশঙ্কা, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ

বিএনপির নেতারা বলছেন, শুধু ডিসেম্বর নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে দলটি। চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষ করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা। নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সজাগ থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয় থাকবে।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়েও আলোচনা

সম্প্রতি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নামেন পোশাকশ্রমিকরা।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচার পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ বিষয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে।

গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ডিসেম্বরকেন্দ্রিক সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সরকারও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখা, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা বিদেশ থেকে আসা অর্থ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কিছু আমলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে অযথা আলোচনার মাধ্যমে একটি হাইপ তৈরির চেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দণ্ডপ্রাপ্ত সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয়, আর্থিক সহযোগিতা কিংবা পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এমনকি দলের কোনো নেতার নিকটাত্মীয় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্প্রতি ঢাকার শাহজাহানপুরে এক কর্মিসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক মিত্রদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে কোথাও ঝটিকা মিছিল, ভাঙচুর বা নাশকতার চেষ্টা হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় বিএনপি।

সব মিলিয়ে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও সরকার। সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়িয়ে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

#বিএনপি #ডিসেম্বরের_রাজনীতি #রাজনৈতিক_পরিস্থিতি

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনো ধরনের উসকানি বা হঠকারী সিদ্ধান্তে পা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছে ডিসেম্বর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।


বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দাবি, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দলটির আশঙ্কা, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ

বিএনপির নেতারা বলছেন, শুধু ডিসেম্বর নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে দলটি। চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।


বিশেষ করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা। নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সজাগ থাকবেন।


তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয় থাকবে।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়েও আলোচনা

সম্প্রতি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নামেন পোশাকশ্রমিকরা।


গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।


এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচার পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ বিষয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে।

গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ডিসেম্বরকেন্দ্রিক সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সরকারও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখা, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা বিদেশ থেকে আসা অর্থ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।


এ ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কিছু আমলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।


সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে অযথা আলোচনার মাধ্যমে একটি হাইপ তৈরির চেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দণ্ডপ্রাপ্ত সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয়, আর্থিক সহযোগিতা কিংবা পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।


এমনকি দলের কোনো নেতার নিকটাত্মীয় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।


সম্প্রতি ঢাকার শাহজাহানপুরে এক কর্মিসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক মিত্রদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে কোথাও ঝটিকা মিছিল, ভাঙচুর বা নাশকতার চেষ্টা হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় বিএনপি।


সব মিলিয়ে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও সরকার। সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়িয়ে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত