নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি ডোবা দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে ড্রেনের পানি উপচে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গন্ধময় নোংরা পানিতে সড়ক তলিয়ে থাকলেও দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সৈয়দপুরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় এ অবরোধ চলে। এতে সৈয়দপুর-রংপুর ও সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই ঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পরে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন এলাকাবাসী।
এ সময় পানি নিষ্কাশন ও ডোবা থেকে মাটি অপসারণের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন তাঁরা।
সরকারি ডোবা ভরাটে জলাবদ্ধতার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর ওয়াপদা মোড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উত্তর-পশ্চিম কোণে প্রায় ১৫ শতক জায়গাজুড়ে একটি ডোবা রয়েছে। জায়গাটির মালিক সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এলাকার প্রধান ড্রেনের পানি ওই ডোবায় গিয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাস ধরে ডোবাটি মাটি দিয়ে ভরাট করছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক প্রকৌশলী আবিদুর রহমান এবং পাশের জমির মালিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জাভিস্কো।
ডোবা ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে ড্রেন উপচে মহাসড়কে জমছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত এক মাস ধরে সড়কের ওই অংশে নোংরা পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কের ক্ষতি, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ীরা
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের মাটি দেবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাস্তার পাশের দোকানপাট এবং সৈয়দপুর-ডোমার রুটে চলাচলকারী বাসের টিকিট কাউন্টারের সামনেও নোংরা পানি জমে রয়েছে। এতে ব্যবসায়ী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ সমস্যা নিরসনে স্থানীয় দোকানদার ও বাসিন্দারা সওজ, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে তাঁদের অভিযোগ, কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন তাঁরা।
প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী।
তাঁরা অবরোধকারীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেন। ইউএনও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও সড়কের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও। এর আগে পানি নিষ্কাশন ও ডোবা থেকে মাটি অপসারণের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ডোবার মালিক সওজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
সওজ নীলফামারীর উপপরিচালক তানিয়া তাসনিম সিন্থিয়া বলেন, তাঁদের জায়গা দখল করার সুযোগ নেই। কেউ ডোবা ভরাট করে থাকলে এবং এর কারণে পানি জমে সড়কের ক্ষতি হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে আপাতত ভেকু ও ট্যাংকারের সাহায্যে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনের পানি যাতে আগের মতো ডোবায় গিয়ে পড়তে পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। পৌর বিধি লঙ্ঘন করে ডোবা ভরাটের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
অভিযুক্তের স্বজনের বক্তব্য
অভিযুক্ত সাবেক পিডিবি প্রকৌশলী আবিদুর রহমানের পক্ষে পাশের জমির মালিক ও সিপিবির সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জাভিস্কো বলেন, ডোবায় মাটি ভরাটকারী তাঁর চাচাতো ভাই। তাঁরা দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন এবং ডোবা থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হবে।
পরে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য মুঠোফোনে অনুরোধ করেন।
সরকারি ডোবা ভরাটের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সড়কের ক্ষতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এখন প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশন ও মাটি অপসারণ করা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি ডোবা দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে ড্রেনের পানি উপচে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গন্ধময় নোংরা পানিতে সড়ক তলিয়ে থাকলেও দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সৈয়দপুরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় এ অবরোধ চলে। এতে সৈয়দপুর-রংপুর ও সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই ঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পরে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন এলাকাবাসী।
এ সময় পানি নিষ্কাশন ও ডোবা থেকে মাটি অপসারণের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন তাঁরা।
সরকারি ডোবা ভরাটে জলাবদ্ধতার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর ওয়াপদা মোড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উত্তর-পশ্চিম কোণে প্রায় ১৫ শতক জায়গাজুড়ে একটি ডোবা রয়েছে। জায়গাটির মালিক সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এলাকার প্রধান ড্রেনের পানি ওই ডোবায় গিয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাস ধরে ডোবাটি মাটি দিয়ে ভরাট করছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক প্রকৌশলী আবিদুর রহমান এবং পাশের জমির মালিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জাভিস্কো।
ডোবা ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে ড্রেন উপচে মহাসড়কে জমছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত এক মাস ধরে সড়কের ওই অংশে নোংরা পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কের ক্ষতি, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ীরা
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের মাটি দেবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাস্তার পাশের দোকানপাট এবং সৈয়দপুর-ডোমার রুটে চলাচলকারী বাসের টিকিট কাউন্টারের সামনেও নোংরা পানি জমে রয়েছে। এতে ব্যবসায়ী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ সমস্যা নিরসনে স্থানীয় দোকানদার ও বাসিন্দারা সওজ, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে তাঁদের অভিযোগ, কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন তাঁরা।
প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী।
তাঁরা অবরোধকারীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেন। ইউএনও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও সড়কের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও। এর আগে পানি নিষ্কাশন ও ডোবা থেকে মাটি অপসারণের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ডোবার মালিক সওজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
সওজ নীলফামারীর উপপরিচালক তানিয়া তাসনিম সিন্থিয়া বলেন, তাঁদের জায়গা দখল করার সুযোগ নেই। কেউ ডোবা ভরাট করে থাকলে এবং এর কারণে পানি জমে সড়কের ক্ষতি হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে আপাতত ভেকু ও ট্যাংকারের সাহায্যে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনের পানি যাতে আগের মতো ডোবায় গিয়ে পড়তে পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। পৌর বিধি লঙ্ঘন করে ডোবা ভরাটের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
অভিযুক্তের স্বজনের বক্তব্য
অভিযুক্ত সাবেক পিডিবি প্রকৌশলী আবিদুর রহমানের পক্ষে পাশের জমির মালিক ও সিপিবির সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জাভিস্কো বলেন, ডোবায় মাটি ভরাটকারী তাঁর চাচাতো ভাই। তাঁরা দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন এবং ডোবা থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হবে।
পরে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য মুঠোফোনে অনুরোধ করেন।
সরকারি ডোবা ভরাটের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সড়কের ক্ষতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এখন প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশন ও মাটি অপসারণ করা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।
