
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে প্রকাশ্য বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে জোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির স্থানীয় নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাসান মামুনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে পটুয়াখালী-৩ আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে জোট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পরপরই গলাচিপা ও দশমিনায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা বিএনপির পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে বাইরের কাউকে প্রার্থী করায় দলের কর্মীদের আত্মসম্মান ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেন এবং তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এরই অংশ হিসেবে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান হাসান মামুনের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়, এই আসনে বিএনপির বড় একটি অংশ সরাসরি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে গতকাল শনিবার সকালে দশমিনা উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা নুরুল হক নুরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেন।
ফলে পটুয়াখালী-৩ আসনে এখন কার্যত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন নুরুল হক নুর ও হাসান মামুন। একদিকে জোটের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী, অন্যদিকে বিএনপির তৃণমূলের সমর্থনপুষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থী, এই দ্বন্দ্ব নির্বাচনী মাঠকে করে তুলেছে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্যহীনতা ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি জোট রাজনীতিতে তৃণমূলের অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।