মকর সংক্রান্তিকে ঘিরে গ্রামবাংলায় আনন্দ
লাখাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পৌষ সংক্রান্তি উদযাপন

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় ও লোকজ উৎসব পৌষ সংক্রান্তি সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে। উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
ভোর থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি ভেড়া ঘর পুড়িয়ে আগুন পোহানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন। পাশাপাশি ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয়েছে নানা রকম ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির। গ্রামবাংলার চিরচেনা এই উৎসবকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।
শাস্ত্র মতে, পৌষ সংক্রান্তিকে ‘মকর সংক্রান্তি’ বা ‘উত্তরায়ণ সংক্রান্তি’ও বলা হয়। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মহাভারতেও এই দিনের তাৎপর্যের উল্লেখ রয়েছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্বের পাশাপাশি দিনটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে।
সংক্রান্তি মূলত জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি বিশেষ ক্ষণ বা সময়। সংস্কৃত ভাষার ‘সংক্রান্তি’ শব্দ দ্বারা সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশ করাকে বোঝানো হয়। মাসের শেষ দিনে সূর্যের রাশি পরিবর্তনের মাধ্যমে সংক্রান্তি সংঘটিত হয়। এভাবে বছরে বারোটি সংক্রান্তি হলেও পৌষ মাসের সংক্রান্তিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সংক্রান্তি অর্থ সঞ্চার বা গমন। রাশিচক্রের বারোটি রাশি—মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীন—চক্রাকারে একটির পর একটি আবর্তিত হয়। সূর্যের এই গমনপথের ফলে ঋতু পরিবর্তন ঘটে এবং প্রকৃতিতে নানাবিধ বৈচিত্র্য দৃশ্যমান হয়।
পৌষ সংক্রান্তি মূলত নতুন ফসলের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ হিসেবেও পরিচিত। এই দিনে আবহমান গ্রামবাংলায় চলে পিঠা উৎসব। পিঠাপুলি, পাটিসাপটা, ভাপা পিঠা, মালপোয়া, চিতই, মুঠা পিঠা ও রস চিতইসহ নানা ধরনের পিঠা তৈরি করা হয়।
এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দলবেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নাম প্রচার করেন। পাশাপাশি বাতাসা, কদমা, কলা, কমলা, আপেলসহ নানা ধরনের ফলমূল উপস্থিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়, যা ‘লুট দেওয়া’ নামে পরিচিত।
সব মিলিয়ে পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যবাহী লোকজ উৎসব, যা যুগ যুগ ধরে বাঙালির ঘরে ঘরে আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে আসছে।


























