ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোরো আবাদ শুরুর মুখে বাড়ছে সারের কালোবাজারি

লাখাইয়ে বোরো মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ

লাখাই প্রতিনিধি::
255

লাখাই উপজেলায় বোরো ধান আবাদের মৌসুম শুরু হতেই সারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে একাধিক সার ডিলারের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে হাওরাঞ্চল বেষ্টিত লাখাই উপজেলার কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বোরো আবাদ শুরু হওয়ায় ডিএপি সারের চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে একটি ডিলার সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে সার গুদামজাত করে বাজারে সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিপণন করছে। ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লাখাই উপজেলায় বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিমাসে ডিলারদের নিয়মিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে লাখাই ইউনিয়নের সার ডিলার প্রদীপ রায় ও সুনীল দেবনাথ বলেন, তাদের দোকানে নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে সার বিক্রি করা হয়নি। তবে কিছু সাব-ডিলার বরাদ্দের বাইরে অন্য এলাকা থেকে বেশি দামে সার কিনে এনে তা বেশি দামে বিক্রি করতে পারে বলে তারা শুনেছেন। তাদের অধীনে মোট ৯ জন সাব-ডিলার রয়েছে বলেও জানান তারা।

ডিলাররা আরও বলেন, বর্তমানে কৃষকরা টিএসপি ও এমওপি সার ব্যবহারে অনাগ্রহী হয়ে ডিএপি সারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় ডিএপি সারের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে ডিএপি সারের সংকট দেখা দিলেও টিএসপি ও এমওপি সার দোকানে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে।

একটি সূত্র জানায়, সরকার নির্ধারিত প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের ডিএপি সার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু ডিলার বরাদ্দকৃত সার নির্ধারিত গুদামে না রেখে অন্যত্র মজুদ করে গুদাম শূন্য দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে লাখাইয়ে সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। নিয়মিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দকৃত সার অবশ্যই নির্ধারিত গুদামঘরে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:২২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
৬৭৯ বার পড়া হয়েছে

বোরো আবাদ শুরুর মুখে বাড়ছে সারের কালোবাজারি

লাখাইয়ে বোরো মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:২২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
255

লাখাই উপজেলায় বোরো ধান আবাদের মৌসুম শুরু হতেই সারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে একাধিক সার ডিলারের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে হাওরাঞ্চল বেষ্টিত লাখাই উপজেলার কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বোরো আবাদ শুরু হওয়ায় ডিএপি সারের চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে একটি ডিলার সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে সার গুদামজাত করে বাজারে সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিপণন করছে। ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লাখাই উপজেলায় বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিমাসে ডিলারদের নিয়মিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে লাখাই ইউনিয়নের সার ডিলার প্রদীপ রায় ও সুনীল দেবনাথ বলেন, তাদের দোকানে নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে সার বিক্রি করা হয়নি। তবে কিছু সাব-ডিলার বরাদ্দের বাইরে অন্য এলাকা থেকে বেশি দামে সার কিনে এনে তা বেশি দামে বিক্রি করতে পারে বলে তারা শুনেছেন। তাদের অধীনে মোট ৯ জন সাব-ডিলার রয়েছে বলেও জানান তারা।

ডিলাররা আরও বলেন, বর্তমানে কৃষকরা টিএসপি ও এমওপি সার ব্যবহারে অনাগ্রহী হয়ে ডিএপি সারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় ডিএপি সারের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে ডিএপি সারের সংকট দেখা দিলেও টিএসপি ও এমওপি সার দোকানে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে।

একটি সূত্র জানায়, সরকার নির্ধারিত প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের ডিএপি সার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু ডিলার বরাদ্দকৃত সার নির্ধারিত গুদামে না রেখে অন্যত্র মজুদ করে গুদাম শূন্য দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে লাখাইয়ে সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। নিয়মিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দকৃত সার অবশ্যই নির্ধারিত গুদামঘরে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।