ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

যশোরে মধ্যরাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রচারের অভিযোগ

যশোর প্রতিনিধি::
139

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় মধ্যরাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত এক সংসদ সদস্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি, শিক্ষানীতি ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে পরদিন ২৩ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মণিরামপুর বাজার, অলিগলি ও যশোর–সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি ভ্যানগাড়িতে করে ধানের শীষের ফেস্টুন টানাতে দেখা যায় একদল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে।

সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে গরুহাট মোড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভ্যানগাড়িতে করে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, তারা মাদানী নগর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার পর তাদের এ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতে, অতীতে জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এ বিষয়ে মাদানী নগর মাদ্রাসার এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় পাঠাই, কোনো রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য নয়। যেখানে আগাম মাসিক বেতন দিতে হয়, সেখানে ছাত্রদের দিয়ে নির্বাচনী কাজ করানো অনৈতিক।”

অভিযোগের বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মা. রশীদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার হিসাবরক্ষক মো. আজহারুল জানান, বিষয়টি তিনি প্রার্থীকে অবহিত করবেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা রিটার্নিং অফিসার মো. সম্রাট হোসেন জানান, বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মণিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে।

সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:০৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

যশোরে মধ্যরাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রচারের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:০৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
139

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় মধ্যরাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত এক সংসদ সদস্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি, শিক্ষানীতি ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে পরদিন ২৩ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মণিরামপুর বাজার, অলিগলি ও যশোর–সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি ভ্যানগাড়িতে করে ধানের শীষের ফেস্টুন টানাতে দেখা যায় একদল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে।

সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে গরুহাট মোড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভ্যানগাড়িতে করে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, তারা মাদানী নগর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার পর তাদের এ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতে, অতীতে জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এ বিষয়ে মাদানী নগর মাদ্রাসার এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় পাঠাই, কোনো রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য নয়। যেখানে আগাম মাসিক বেতন দিতে হয়, সেখানে ছাত্রদের দিয়ে নির্বাচনী কাজ করানো অনৈতিক।”

অভিযোগের বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মা. রশীদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার হিসাবরক্ষক মো. আজহারুল জানান, বিষয়টি তিনি প্রার্থীকে অবহিত করবেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা রিটার্নিং অফিসার মো. সম্রাট হোসেন জানান, বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মণিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে।

সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।