দেশজুড়ে আশেকান ভক্তদের ঢল নামবে মুড়ারবন্দে
মুড়ারবন্দ দরবার শরীফে ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক ওরস শুরু ১৪ জানুয়ারি

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক মুড়ারবন্দ ১২০ আউলিয়া দরবার শরীফে আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ৭০৫তম পবিত্র বাৎসরিক ওরস মোবারক। এ ওরস শেষ হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার)।
দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহমেদ চিশতী সফি জানান, সিলেটের পুণ্যভূমিতে শায়িত হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, প্রধান সেনাপতি ও তরফ রাজ্য বিজয়ী (মদনী) হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন সিপাহসালার (রহ.) ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দে মদিনা শরীফে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বাগদাদ থেকে দিল্লিতে এসে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির শাসনামলে ফৌজি বিভাগে যোগদান করেন। তাঁর বীরত্ব ও কামালিয়াতে মুগ্ধ হয়ে শাহী সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সিলেট অঞ্চল বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে হযরত শাহজালাল ইয়ামেনী (রহ.)–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে মুসলমানদের ওপর রাজা গৌড় গোবিন্দের অত্যাচারের সংবাদ পেয়ে তিনি শাহী বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হতে সম্মতি জানান।
৭০৩ হিজরি (১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে) সিলেট বিজয়ের পর তিনি তরফ রাজ্য জয় করেন এবং ১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দে মুড়ারবন্দ এলাকায় তরফ রাজ্যের শাসনকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়ে বসতি স্থাপন করেন।
ইন্তেকালের পূর্বে তিনি তাঁর দেহ মোবারক পূর্ব-পশ্চিমে দাফনের নির্দেশ দিলেও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী আশেকান ভক্তবৃন্দ উত্তর-দক্ষিণে দাফন করেন। কথিত আছে, দাফনের পর ৪০ কদম দূরে যাওয়ার পর অলৌকিকভাবে মাজার শরীফ পূর্ব-পশ্চিম দিকে ঘুরে যায়। আজও তাঁর মাজার শরীফ পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থিত।
আগামী পবিত্র ওরস উপলক্ষে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পণ্যের দোকানপাট ও কাফেলা বসানোর জন্য স্থান নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অসংখ্য আশেকান ও ভক্তবৃন্দ মুড়ারবন্দ ১২০ আউলিয়া দরবার শরীফে উপস্থিত হয়ে পবিত্র ওরসে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দিনব্যাপী পবিত্র ওরসে অংশগ্রহণের জন্য দেশের সকল আশেকান ভক্তবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহমেদ চিশতী সফি।




















