জেলা প্রশাসনের দ্রুত দখলমুক্ত করার আশ্বাস
বাগেরহাট-রামপালে পানিসংকট ও খাল দখলে কৃষি বিপর্যস্ত

বাগেরহাট ও রামপাল উপজেলায় তীব্র পানিসংকট, লবণাক্ততার বৃদ্ধি এবং সরকারি খাল ও খাস পুকুর দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সরকারি খাল ও খাস পুকুর অবমুক্ত করার দাবিতে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের ইয়ুথ সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাগেরহাট একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। প্রায় ১৪শ শতকে হজরত খানজাহান আলী (রঃ) এ অঞ্চলে কৃষি ও জনজীবনের উন্নয়নে অসংখ্য খাল, দীঘি ও জলাধার খনন করেছিলেন। এসব জলাধার একসময় কৃষি উৎপাদন ও সুপেয় পানির প্রধান উৎস ছিল। কিন্তু বর্তমানে অবৈধ দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে অধিকাংশ খাল ও পুকুর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
উপকূলীয় জেলা হওয়ায় বাগেরহাট ও রামপালে দিন দিন লবণাক্ততার মাত্রা বাড়ছে। সরকারি খাল ও পুকুর দখলের ফলে নদী ও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। এর ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি অনাবাদী হয়ে পড়ছে। শুধু রামপাল উপজেলাতেই বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমি অনাবাদী রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ২৩১ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ হচ্ছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে। পতিত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৭০৭ হেক্টর এবং সারা বছর পানির নিচে থাকে প্রায় ১৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমি।
বক্তারা জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলার মাদারতলা, খুনতাকাটা, শশিখালী, গোদাড়ার খালসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল দখল হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একইভাবে সরকারি পুকুর লিজ দিয়ে মাছ চাষ করায় সাধারণ মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খাল ও নদী পুনঃখনন, টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং লবণাক্ততা-সহনশীল ফসল চাষে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “সরকারি খাল ও খাস পুকুর রাষ্ট্রের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমি ইতোমধ্যে জেনেছি কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব খাল ও পুকুর দখল করে মাছ চাষ করছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো দখলমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি খাস পুকুরগুলো সংস্কার করে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হবে।”


























