ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সহকারী বন সংরক্ষকসহ আহত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী

ফটিকছড়িতে বনভূমি উদ্ধার অভিযানে হামলা, আহত বন কর্মকর্তারা

মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম::
115

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। অবৈধ দখল উচ্ছেদে গেলে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় সহকারী বন সংরক্ষকসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা গুরুতর আহত হন।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুইল্যছড়ি এলাকায়। ধুরুং বন বিভাগের একটি দল সরকারি বনভূমি উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

এই হামলায় আহত হয়েছেন, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) খান মোহাম্মদ আবরারুর রহমান, ধুরুং বন বিভাগের এফবি খন্দকার মাহফুজ আলী, চট্টগ্রাম সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া, হাসনাবাদ রেঞ্জ কর্মকর্তা সিফাত আল রাব্বানি, গাড়িচালক বিপ্লব, বনকর্মী মো. তুয়ার।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বন বিভাগ সূত্র জানায়, হামলাকারীরা কেবল কর্মকর্তাদের ওপরই নয়, সরকারি যানবাহনের ওপরও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একটি সিএনজি, একটি মাইক্রোবাস এবং একটি সরকারি জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বন বিভাগ জানায়, ধুরুং বন বিভাগের আওতাধীন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুইল্যছড়ি এলাকায় সরকারি বনভূমি দখল করে হাফেজ মোহাম্মদ শাহ আলম নঈমী নামে এক ব্যক্তি ‘জালালিয়া রজবিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন।

২০২৫ সালে নির্মিত ওই স্থাপনাকে অবৈধ ঘোষণা করে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হলে দখলদার পক্ষ সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালায়।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উত্তর) মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারি বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। উচ্ছেদ অভিযানে গেলে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রামের পাহাড় ও বনাঞ্চলে অবৈধ দখলচক্র কতটা সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সরকারি বনভূমি রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেভাবে কর্মকর্তারা হামলার শিকার হচ্ছেন, তা পরিবেশ সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের জন্য গভীর উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:৩০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
৫৭১ বার পড়া হয়েছে

সহকারী বন সংরক্ষকসহ আহত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী

ফটিকছড়িতে বনভূমি উদ্ধার অভিযানে হামলা, আহত বন কর্মকর্তারা

আপডেট সময় ১০:৩০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
115

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। অবৈধ দখল উচ্ছেদে গেলে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় সহকারী বন সংরক্ষকসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা গুরুতর আহত হন।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুইল্যছড়ি এলাকায়। ধুরুং বন বিভাগের একটি দল সরকারি বনভূমি উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

এই হামলায় আহত হয়েছেন, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) খান মোহাম্মদ আবরারুর রহমান, ধুরুং বন বিভাগের এফবি খন্দকার মাহফুজ আলী, চট্টগ্রাম সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া, হাসনাবাদ রেঞ্জ কর্মকর্তা সিফাত আল রাব্বানি, গাড়িচালক বিপ্লব, বনকর্মী মো. তুয়ার।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বন বিভাগ সূত্র জানায়, হামলাকারীরা কেবল কর্মকর্তাদের ওপরই নয়, সরকারি যানবাহনের ওপরও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একটি সিএনজি, একটি মাইক্রোবাস এবং একটি সরকারি জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বন বিভাগ জানায়, ধুরুং বন বিভাগের আওতাধীন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুইল্যছড়ি এলাকায় সরকারি বনভূমি দখল করে হাফেজ মোহাম্মদ শাহ আলম নঈমী নামে এক ব্যক্তি ‘জালালিয়া রজবিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন।

২০২৫ সালে নির্মিত ওই স্থাপনাকে অবৈধ ঘোষণা করে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হলে দখলদার পক্ষ সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালায়।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উত্তর) মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারি বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। উচ্ছেদ অভিযানে গেলে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রামের পাহাড় ও বনাঞ্চলে অবৈধ দখলচক্র কতটা সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। সরকারি বনভূমি রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেভাবে কর্মকর্তারা হামলার শিকার হচ্ছেন, তা পরিবেশ সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের জন্য গভীর উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।