ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনা নগরীতে সাত হাজার বেওয়ারিশ কুকুর মার্চ ডক ভ্যাকসিনের আওতায়

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::

ছবি: সংগৃহীত

খুলনা নগরীতে ক্রমবর্ধমান বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে “মার্চ ডক ভ্যাকসিনেশন” কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৭ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে এ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

নগরীর লবনচরা থেকে বাদামতলা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় দিন-রাত ঘুরে বেড়ানো কুকুরের আক্রমণে পথচারী ও যানবাহন চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বয়স্ক, নারী ও শিশুরা রাস্তায় বের হলে দলবদ্ধভাবে কুকুরের তাড়া ও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

সড়কের পাশে অব্যবস্থাপনার কারণে যত্রতত্র ময়লা ফেলা ও ডাস্টবিনে খাবারের অবশিষ্টাংশ ফেলে রাখায় এসব ক্ষুধার্ত কুকুর সেখানে আশ্রয় নেয় এবং আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কেসিসির প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কুকুরের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে — যেমন শহরে ৪১টি, পিটিআই মোড়ে ৩৬টি, গল্লামারীতে ২৮টি এবং নিউমার্কেটে ২৬টি কুকুরের বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে খালিশপুর, হাউজিং বাজার, কোহিনূর মোড়, বায়তুল ফালাহ মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে কুকুরের উপদ্রব আরও বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সাবেক কাউন্সিলরা কেসিসির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বাবু বলেন, “বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।” গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সভায় নাগরিক নেতা মো. আইনুল হক এবং প্রাণীপ্রেমিক এস.এম. সোহরাব হোসেনও একই দাবি জানান।

কেসিসির প্রশাসক ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার গত ১১ সেপ্টেম্বর বাজেট পেশকালে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যমতে, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ১৮০ জন জনবল নিয়ে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। মূল লক্ষ্য হলো জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে কুকুরদের টিকাদান নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে একই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছিল।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
৫৭৪ বার পড়া হয়েছে

খুলনা নগরীতে সাত হাজার বেওয়ারিশ কুকুর মার্চ ডক ভ্যাকসিনের আওতায়

আপডেট সময় ০৬:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

খুলনা নগরীতে ক্রমবর্ধমান বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে “মার্চ ডক ভ্যাকসিনেশন” কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৭ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে এ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

নগরীর লবনচরা থেকে বাদামতলা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় দিন-রাত ঘুরে বেড়ানো কুকুরের আক্রমণে পথচারী ও যানবাহন চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বয়স্ক, নারী ও শিশুরা রাস্তায় বের হলে দলবদ্ধভাবে কুকুরের তাড়া ও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

সড়কের পাশে অব্যবস্থাপনার কারণে যত্রতত্র ময়লা ফেলা ও ডাস্টবিনে খাবারের অবশিষ্টাংশ ফেলে রাখায় এসব ক্ষুধার্ত কুকুর সেখানে আশ্রয় নেয় এবং আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কেসিসির প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কুকুরের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে — যেমন শহরে ৪১টি, পিটিআই মোড়ে ৩৬টি, গল্লামারীতে ২৮টি এবং নিউমার্কেটে ২৬টি কুকুরের বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে খালিশপুর, হাউজিং বাজার, কোহিনূর মোড়, বায়তুল ফালাহ মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে কুকুরের উপদ্রব আরও বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সাবেক কাউন্সিলরা কেসিসির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বাবু বলেন, “বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।” গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সভায় নাগরিক নেতা মো. আইনুল হক এবং প্রাণীপ্রেমিক এস.এম. সোহরাব হোসেনও একই দাবি জানান।

কেসিসির প্রশাসক ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার গত ১১ সেপ্টেম্বর বাজেট পেশকালে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যমতে, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ১৮০ জন জনবল নিয়ে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। মূল লক্ষ্য হলো জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে কুকুরদের টিকাদান নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে একই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছিল।