ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনার বটিয়াঘাটায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::

ছবি: সংগৃহীত

97

খুলনার বটিয়াঘাটার সদর ইউনিয়নের জামায়াত সভাপতি ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. সোহেল রানা ২২ সেপ্টেম্বর ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন, যাতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় থেকে প্রেসক্লাবের নামে সরকারি বরাদ্দ হিসাবে ২ বান টিন এবং ৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। তবে প্রেসক্লাব শুধুমাত্র টিন গ্রহণের তথ্য প্রকাশ করলে ৬ হাজার টাকা তরিকুল নিজেকে প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে নিজ নামে উত্তোলন করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেন।

লিখিত অভিযোগে সোহেল রানা বলেন, “টাকাটি প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া উচিত ছিল। এটি এখনও প্রেসক্লাবে জমা হয়নি।” প্রেসক্লাবের সা: সম্পাদক আলামিন গোলদার জানান, “সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত টাকাটি তরিকুল নিজের নামে নিয়েছেন। আমি জানি না টাকাটি এখনও প্রেসক্লাবে জমা হয়েছে কিনা।”

অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম অভিযোগের জবাবে বলেন, “চেক ছয় মাস পূর্বে ইস্যু হওয়ায় টাকা দেরিতে উত্তোলন হয়েছে। এ বিষয়ে প্রেসক্লাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে টাকা যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাফ হোসেন মুন্সী এর কাছে আছে।”

সাবেক পিআইও শরীফ মো. রুবেল বলেন, “তরিকুল নিজেকে জামায়াত নেতা ও প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে চেক গ্রহণ করেছেন এবং বারবার বলার পরও টাকা ফেরত দেননি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে খুলনা-০১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ প্রার্থী মাওঃ শেখ আবু ইউসুফ মন্তব্য করেছেন, “এটি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।” বটিয়াঘাটা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেয়ারা তন্নী বলেন, “নতুন পিআইও অফিস থেকে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানে জানা গেছে, তরিকুলের কোনো বৈধ আয় উৎস নেই এবং সরকারি বরাদ্দ ও দলীয় নাম ব্যবহার করে অনৈতিক উপায়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার দালাল চক্র সরকারি অফিসে তদবির করে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করছে। সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, তরিকুল কর্তৃক সরকারি অফিসের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি ও ব্ল্যাকমেইলিং করা হচ্ছে।

পরবর্তীতে প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন চূড়ান্ত প্রমাণ সংগ্রহের পর তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:৩৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
৬৫৫ বার পড়া হয়েছে

খুলনার বটিয়াঘাটায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৩৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
97

খুলনার বটিয়াঘাটার সদর ইউনিয়নের জামায়াত সভাপতি ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. সোহেল রানা ২২ সেপ্টেম্বর ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন, যাতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় থেকে প্রেসক্লাবের নামে সরকারি বরাদ্দ হিসাবে ২ বান টিন এবং ৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। তবে প্রেসক্লাব শুধুমাত্র টিন গ্রহণের তথ্য প্রকাশ করলে ৬ হাজার টাকা তরিকুল নিজেকে প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে নিজ নামে উত্তোলন করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেন।

লিখিত অভিযোগে সোহেল রানা বলেন, “টাকাটি প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া উচিত ছিল। এটি এখনও প্রেসক্লাবে জমা হয়নি।” প্রেসক্লাবের সা: সম্পাদক আলামিন গোলদার জানান, “সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত টাকাটি তরিকুল নিজের নামে নিয়েছেন। আমি জানি না টাকাটি এখনও প্রেসক্লাবে জমা হয়েছে কিনা।”

অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম অভিযোগের জবাবে বলেন, “চেক ছয় মাস পূর্বে ইস্যু হওয়ায় টাকা দেরিতে উত্তোলন হয়েছে। এ বিষয়ে প্রেসক্লাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে টাকা যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাফ হোসেন মুন্সী এর কাছে আছে।”

সাবেক পিআইও শরীফ মো. রুবেল বলেন, “তরিকুল নিজেকে জামায়াত নেতা ও প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে চেক গ্রহণ করেছেন এবং বারবার বলার পরও টাকা ফেরত দেননি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে খুলনা-০১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ প্রার্থী মাওঃ শেখ আবু ইউসুফ মন্তব্য করেছেন, “এটি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।” বটিয়াঘাটা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেয়ারা তন্নী বলেন, “নতুন পিআইও অফিস থেকে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানে জানা গেছে, তরিকুলের কোনো বৈধ আয় উৎস নেই এবং সরকারি বরাদ্দ ও দলীয় নাম ব্যবহার করে অনৈতিক উপায়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার দালাল চক্র সরকারি অফিসে তদবির করে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করছে। সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, তরিকুল কর্তৃক সরকারি অফিসের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি ও ব্ল্যাকমেইলিং করা হচ্ছে।

পরবর্তীতে প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন চূড়ান্ত প্রমাণ সংগ্রহের পর তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।