ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে সাজিদ হত্যার খুনিদের গ্রেফতার ও  শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

ইবি প্রতিনিধি::
141

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ছয় মাস নয় দিন পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী হত্যার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা অভিযোগ করেন, দিনের আলোতে এমন একটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছেছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আমরা শুনে আসছি তদন্ত রিপোর্ট আসছে। যখনই আমরা বিচার চাইতে সোচ্চার হই, তখনই প্রশাসন আমাদের তদন্তের অজুহাতে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই তদন্ত রিপোর্ট কবে আসবে, সেটাই প্রশ্ন। কোনো অদৃশ্য শক্তির ভয়ে যদি বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের সামনে তা স্পষ্ট করতে হবে। সাজিদ হত্যাসহ সকল অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের মুখ উন্মোচন করতে হবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ বলেন, এই ছয় মাসে প্রশাসন নানা টালবাহানা করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ব্যর্থতা আর মেনে নেওয়া হবে না। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি, ব্যর্থ প্রক্টর বডিকে আগামীকাল বিকেল ৪টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় তাদের অপসারণ করতে হবে। দাবি মানা না হলে আগামী বুধবার সকাল ১১টায় ভিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রয়োজনে তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।

উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে জানানো হলে তিনি বলেন, আমি একজন কনভেনর হিসেবে বিষয়টি উপাচার্যের সামনে উপস্থাপন করবো।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বলেন, নিরাপত্তার দিক থেকে সাজিদ হত্যাকাণ্ডে প্রক্টরের একক দায় নেই। প্রক্টর প্রশাসনের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। যদি কোনো দায় থাকে, তা পুরো প্রশাসনের। ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশি তদন্তাধীন। ভিসির পক্ষ থেকে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। শিক্ষার্থীরা যদি ভিন্ন কোনো কর্মসূচি দেয়, প্রয়োজনে আমরাও শিক্ষার্থীদের কাতারে দাঁড়াব।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৩:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
৫৯০ বার পড়া হয়েছে

ইবিতে সাজিদ হত্যার খুনিদের গ্রেফতার ও  শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৩:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
141

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ছয় মাস নয় দিন পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী হত্যার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা অভিযোগ করেন, দিনের আলোতে এমন একটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছেছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আমরা শুনে আসছি তদন্ত রিপোর্ট আসছে। যখনই আমরা বিচার চাইতে সোচ্চার হই, তখনই প্রশাসন আমাদের তদন্তের অজুহাতে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই তদন্ত রিপোর্ট কবে আসবে, সেটাই প্রশ্ন। কোনো অদৃশ্য শক্তির ভয়ে যদি বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের সামনে তা স্পষ্ট করতে হবে। সাজিদ হত্যাসহ সকল অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের মুখ উন্মোচন করতে হবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ বলেন, এই ছয় মাসে প্রশাসন নানা টালবাহানা করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ব্যর্থতা আর মেনে নেওয়া হবে না। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি, ব্যর্থ প্রক্টর বডিকে আগামীকাল বিকেল ৪টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় তাদের অপসারণ করতে হবে। দাবি মানা না হলে আগামী বুধবার সকাল ১১টায় ভিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রয়োজনে তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।

উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে জানানো হলে তিনি বলেন, আমি একজন কনভেনর হিসেবে বিষয়টি উপাচার্যের সামনে উপস্থাপন করবো।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বলেন, নিরাপত্তার দিক থেকে সাজিদ হত্যাকাণ্ডে প্রক্টরের একক দায় নেই। প্রক্টর প্রশাসনের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। যদি কোনো দায় থাকে, তা পুরো প্রশাসনের। ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশি তদন্তাধীন। ভিসির পক্ষ থেকে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। শিক্ষার্থীরা যদি ভিন্ন কোনো কর্মসূচি দেয়, প্রয়োজনে আমরাও শিক্ষার্থীদের কাতারে দাঁড়াব।