বাগেরহাটের রামপালে যুবক আহাদ আহমেদ ইতু হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা) সাবেক সদস্য ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি মো. মাসুম বিল্লাহ (৫০), তার ভাই মো. বাকিবিল্লাহ (৪৫) এবং মাসুম বিল্লাহর স্ত্রী মনিরা বেগম (৫৫)।রামপাল থানার ওসি শেখ রাজীব আল রশিদ জানান, সোমবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ইসলামাবাদ গ্রামে হামলার ঘটনায় আহাদ আহমেদ ইতু নিহত হন। এ সময় তার বাবা শেখ ফরিদুজ্জামানও গুরুতর আহত হন।ঘটনার পর সোমবার রাতে আহাদের বড় ভাই মিতু তিনজনের নাম উল্লেখ করে রামপাল থানায় হত্যা মামলা করেন। এর আগেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মনিরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং র্যাব-৬ খুলনার সহযোগিতায় খুলনার ফুলতলা এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহ ও তার ভাই বাকিবিল্লাহকে আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের রামপাল থানায় আনা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ অতীতে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, বিভিন্ন মামলায় কারাভোগের পর তিনি এলাকায় ফিরে আসেন এবং তার কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামাবাদ গ্রামে জমির পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে আহাদের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।সোমবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এ সময় বাকিবিল্লাহ ও মাসুম বিল্লাহ লোহার রড দিয়ে আহাদের বুকে আঘাত করেন। পরে তার বাবা ফরিদুজ্জামানকেও মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করা হয়।গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আহাদ ও তার বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই আহাদের মৃত্যু হয়। তার বাবা শেখ ফরিদুজ্জামানকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর তিন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।