রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

পাঁচ বছরেও চালু হয়নি ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার

পাঁচ বছরেও চালু হয়নি ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার
ছবি: চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার নাগরিকদের নিরাপদ ও আয়রনমুক্ত পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ জুন প্লান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও আজ পর্যন্ত সেখান থেকে এক ফোঁটা পানিও পাননি পৌরবাসী।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এরই মধ্যে প্লান্টের তিনটি গভীর নলকূপই নষ্ট হয়ে গেছে। পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও স্থাপন করা হয়নি। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এই স্থাপনা এখন পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর পৌরসভার বাসিন্দাদের আয়রনমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় শ্যামলীপাড়ার উত্তরে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে এটি নির্মাণ করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌরবাসীর মধ্যে সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ চলার পর ২০২২ সালের ২৮ জুন প্লান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রতি ঘণ্টায় দুই লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হস্তান্তরের পর আর চালু হয়নি প্লান্টটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্লান্টটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। এরই মধ্যে তিনটি গভীর নলকূপ নষ্ট হয়ে গেছে। পানি সরবরাহের পাইপলাইনও স্থাপন না হওয়ায় প্লান্টটি চালু করলেও তাৎক্ষণিকভাবে পৌরবাসীর কাছে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেই।

পৌরবাসী শংকর দেবনাথ বলেন, প্লান্টটি হস্তান্তরের পর চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি বছরের পর বছর পড়ে আছে। প্লান্টটি চালু করা গেলে আয়রনযুক্ত পানির সমস্যায় থাকা পৌর এলাকার মানুষ নিরাপদ পানি পেতেন।

আরেক পৌর নাগরিক সাদেক বলেন, সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্লান্টটি নির্মাণ করেছে। কিন্তু এটি কেন চালু হয়নি, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এভাবে পড়ে থাকলে ধীরে ধীরে সরকারি সম্পদের আরও ক্ষতি হবে।

মাধবপুর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ প্লান্টটি চালুর জন্য বারবার চেষ্টা করছে। তবে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে সময়মতো এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

মাধবপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্লান্ট ও ওভারহেড ট্যাঙ্ক পরিদর্শন করেছেন। তখন জানতে পারেন, প্লান্টটি কখনোই চালু হয়নি। এটি কীভাবে দ্রুত চালু করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাধবপুর পৌরসভায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। নিরাপদ ও আয়রনমুক্ত পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মিত এই প্লান্ট দ্রুত সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, নষ্ট নলকূপগুলো মেরামত, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংস্কার এবং পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করে দ্রুত প্লান্টটি চালু করা হোক।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনগণের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি স্থাপনা যদি বছরের পর বছর চালুই না হয়, তাহলে এর সুফল জনগণ পাবে কখন? সরকারি অর্থে নির্মিত এই অবকাঠামো দ্রুত সচল করে পৌরবাসীর কাজে লাগানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার কারণও খতিয়ে দেখার দাবি তাঁদের।

চেকপোস্ট

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


পাঁচ বছরেও চালু হয়নি ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার নাগরিকদের নিরাপদ ও আয়রনমুক্ত পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ জুন প্লান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও আজ পর্যন্ত সেখান থেকে এক ফোঁটা পানিও পাননি পৌরবাসী।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এরই মধ্যে প্লান্টের তিনটি গভীর নলকূপই নষ্ট হয়ে গেছে। পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও স্থাপন করা হয়নি। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এই স্থাপনা এখন পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর পৌরসভার বাসিন্দাদের আয়রনমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় শ্যামলীপাড়ার উত্তরে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে এটি নির্মাণ করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌরবাসীর মধ্যে সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ চলার পর ২০২২ সালের ২৮ জুন প্লান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রতি ঘণ্টায় দুই লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হস্তান্তরের পর আর চালু হয়নি প্লান্টটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্লান্টটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। এরই মধ্যে তিনটি গভীর নলকূপ নষ্ট হয়ে গেছে। পানি সরবরাহের পাইপলাইনও স্থাপন না হওয়ায় প্লান্টটি চালু করলেও তাৎক্ষণিকভাবে পৌরবাসীর কাছে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেই।

পৌরবাসী শংকর দেবনাথ বলেন, প্লান্টটি হস্তান্তরের পর চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি বছরের পর বছর পড়ে আছে। প্লান্টটি চালু করা গেলে আয়রনযুক্ত পানির সমস্যায় থাকা পৌর এলাকার মানুষ নিরাপদ পানি পেতেন।

আরেক পৌর নাগরিক সাদেক বলেন, সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্লান্টটি নির্মাণ করেছে। কিন্তু এটি কেন চালু হয়নি, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এভাবে পড়ে থাকলে ধীরে ধীরে সরকারি সম্পদের আরও ক্ষতি হবে।

মাধবপুর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ প্লান্টটি চালুর জন্য বারবার চেষ্টা করছে। তবে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে সময়মতো এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

মাধবপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্লান্ট ও ওভারহেড ট্যাঙ্ক পরিদর্শন করেছেন। তখন জানতে পারেন, প্লান্টটি কখনোই চালু হয়নি। এটি কীভাবে দ্রুত চালু করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাধবপুর পৌরসভায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। নিরাপদ ও আয়রনমুক্ত পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মিত এই প্লান্ট দ্রুত সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, নষ্ট নলকূপগুলো মেরামত, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংস্কার এবং পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করে দ্রুত প্লান্টটি চালু করা হোক।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনগণের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি স্থাপনা যদি বছরের পর বছর চালুই না হয়, তাহলে এর সুফল জনগণ পাবে কখন? সরকারি অর্থে নির্মিত এই অবকাঠামো দ্রুত সচল করে পৌরবাসীর কাজে লাগানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার কারণও খতিয়ে দেখার দাবি তাঁদের।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত