প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তারের দাবি মমতার
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম নেওয়ার দাবি জানান।মমতার আরও দাবি, SIR-এর আগে থাকা পুরোনো ভোটার তালিকা ফিরিয়ে এনে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। একই ধরনের ব্যবস্থা অন্য যেসব রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানেও নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও বুধবার নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, ‘ভোট চুরি’ ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সংবিধানের ওপর আঘাত। তাঁর অভিযোগের সঙ্গে বিজেপি, আরএসএস ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর মন্তব্যও ছিল।নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিন সদস্যের কমিশনের অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি SIR-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে ১০ মাসে অন্তত ১৪টি আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।তবে নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে। কমিশনের দাবি, বিভিন্ন মতামত ও পর্যবেক্ষণ প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ এবং গত এক বছরে কমিশনের সব সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবেই নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতামত বিনিময় ও ভিন্নমত প্রকাশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।
এদিকে SIR ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের চাপ আরও বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে পুরোনো ভোটার তালিকা ব্যবহার করে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবির পাশাপাশি কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি উঠেছে।