ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ৩০ সেপ্টেম্বর: বাসে উচ্চ স্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলা ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষকসহ দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনায় বাংলা বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বুধবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র-উপদেষ্টার জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলা বিভাগের মেহেদী, আব্দুর রউফ ও মোসাব্বির হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।এর আগে মঙ্গলবার কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে উচ্চ স্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে দুজনই আহত হন।ঘটনার জেরে বুধবার সকালে প্রক্টর অফিসে দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছে পরস্পরকে ক্ষমা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।তবে সভা শেষে শিক্ষকরা বের হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।সংঘর্ষে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। আহত হন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও হেনস্তার শিকার হন। পরে আবু সাইদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন শিক্ষার্থীকে অজ্ঞান অবস্থায় আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন।ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারা তালা খুলে দেন।দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, সমঝোতায় সম্মত হয়ে প্রক্টর অফিস থেকে বের হওয়ার সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি থেকেই পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।ঘটনার কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত ও শাস্তির সুপারিশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।এ ছাড়া বাংলা বিভাগও অধ্যাপক ড. মো. মনজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান জানান, জরুরি সভা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বিভাগ তা মেনে নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।