সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিস্তারিত জানতে চিঠি বাংলাদেশের

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কনস্যুলেট ও ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।মৃত্যুদণ্ডের তথ্য জানতে সৌদিকে চিঠিজেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি কনস্যুলেটের নজরে আসে।এরপর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানাতে অনুরোধ করা হয়।কারা সেই দুই বাংলাদেশি?সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক ও অশালীন’ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের আটক করেছিল।শরিয়াহ আইনে মৃত্যুদণ্ডের আদেশপ্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তের পর দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। সৌদি আরবের শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন বলে জানানো হয়েছে।উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয় বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।বিচারপ্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নসৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।তবে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে জানানো হয়েছিল কি না, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না কিংবা আপিলের সুযোগ নিয়েছিলেন কি না এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।কনস্যুলার অধিকার নিয়ে আলোচনাকনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো দেশের নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তাঁর অনুরোধে আটককারী দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবহিত করতে এবং কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ দিতে হয়।এ ক্ষেত্রে দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এত গুরুতর একটি বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশি মিশনের কাছে তথ্য না থাকার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন, আইনি সহায়তা এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কেও আরও তথ্য প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন।ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, বিচারপ্রক্রিয়ার বিবরণ এবং বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করা হয়েছিল কি না এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিস্তারিত জানতে চিঠি বাংলাদেশের