হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছালে আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, পাঠদানে অবহেলা, শিক্ষিকাদের ভিডিও ধারণ এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছালে আহমেদ চুনারুঘাট উপজেলার আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরিজীবনের শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে পড়াঝার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে সহকর্মীরা লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তাঁকে কালিশিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাজী আব্দুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সালিশ হয়। সালিশে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ না করার অঙ্গীকার করে তিনি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত বন্ড দিয়েছিলেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে বিদ্যালয় ও শিক্ষিকাদের নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলে চুনারুঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।
কালিশিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান (নাম ও পদবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে যাচাইযোগ্য) এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর কর্মকাণ্ডে শিক্ষক সমাজের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ২০১৫ সালে যোগদানের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে ছালে আহমেদ বারবার চাকরিবিধি লঙ্ঘন করছেন এবং সহকর্মীদের হয়রানি করছেন। তাঁদের দাবি, এ পরিস্থিতির কারণে তাঁকে একাধিকবার বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চলতি বছরের ২৭ জুলাই ৯৬৫ নম্বর স্মারকে তাঁকে আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হাজী আব্দুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় সহকর্মী শিক্ষিকাদের ভিডিও ধারণ এবং পাঠদানে অবহেলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে শিক্ষিকাদের স্বাক্ষরসংবলিত লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছালে আহমেদ দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষিকাদের হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডেইজি রানী দাস উপজেলা শিক্ষা অফিস ও চুনারুঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক ছালে আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খালেদুর রশিদ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো শিক্ষক সমাজ প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষিকাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় ফৌজদারি অভিযোগও করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম সহকারী শিক্ষক ছালে আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছালে আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, পাঠদানে অবহেলা, শিক্ষিকাদের ভিডিও ধারণ এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছালে আহমেদ চুনারুঘাট উপজেলার আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরিজীবনের শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে পড়াঝার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে সহকর্মীরা লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তাঁকে কালিশিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাজী আব্দুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সালিশ হয়। সালিশে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ না করার অঙ্গীকার করে তিনি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত বন্ড দিয়েছিলেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে বিদ্যালয় ও শিক্ষিকাদের নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলে চুনারুঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।
কালিশিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান (নাম ও পদবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে যাচাইযোগ্য) এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর কর্মকাণ্ডে শিক্ষক সমাজের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ২০১৫ সালে যোগদানের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে ছালে আহমেদ বারবার চাকরিবিধি লঙ্ঘন করছেন এবং সহকর্মীদের হয়রানি করছেন। তাঁদের দাবি, এ পরিস্থিতির কারণে তাঁকে একাধিকবার বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চলতি বছরের ২৭ জুলাই ৯৬৫ নম্বর স্মারকে তাঁকে আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হাজী আব্দুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় সহকর্মী শিক্ষিকাদের ভিডিও ধারণ এবং পাঠদানে অবহেলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে শিক্ষিকাদের স্বাক্ষরসংবলিত লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছালে আহমেদ দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষিকাদের হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডেইজি রানী দাস উপজেলা শিক্ষা অফিস ও চুনারুঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক ছালে আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খালেদুর রশিদ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো শিক্ষক সমাজ প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষিকাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় ফৌজদারি অভিযোগও করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম সহকারী শিক্ষক ছালে আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
