গরম থেকে স্বস্তি পেতে কর্মক্ষেত্র, গাড়ি কিংবা শোবার ঘরে অনেকেই দীর্ঘ সময় এসি ব্যবহার করেন। দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকা এখন অনেকের নিয়মিত অভ্যাস। কিন্তু এসির ঠান্ডা পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে কি সরাসরি কিডনিতে পাথর হয়?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, এসি নিজে কিডনিতে পাথর তৈরি করে এমন প্রমাণ নেই। তবে এসিতে থাকার কারণে তৃষ্ণা কম অনুভূত হলে এবং পানি খাওয়ার পরিমাণ কমে গেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। আর পানিশূন্যতা কিডনিতে পাথর তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলোর একটি।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। তখন প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম, অক্সালেটসহ কিছু খনিজ ও লবণের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে ক্রিস্টাল তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে এসব ক্রিস্টাল বড় হয়ে কিডনিতে পাথরে পরিণত হতে পারে।
অর্থাৎ সমস্যার মূল কারণ এসির ঠান্ডা বাতাস নয়, বরং পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া পানিশূন্যতা।
কিন্তু পানি কম খেলে প্রস্রাব ঘন হয়। তখন পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখা কিছু উপাদান একত্র হয়ে ক্রিস্টাল তৈরি করতে পারে। পরে সেই ক্রিস্টাল বড় হয়ে পাথরে পরিণত হতে পারে।
বিশেষ করে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ কিডনিতে পাথরের কিছু ধরনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কাজের টেবিলে পানির বোতল রাখলে পানি খাওয়ার কথা মনে রাখা সহজ হয়। তবে সবার পানির প্রয়োজন এক নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর তরলের প্রয়োজন নির্ভর করে।
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি। পর্যাপ্ত পানি প্রস্রাবকে পাতলা রাখতে এবং পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখা খনিজ শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
তাই দীর্ঘ সময় এসিতে কাজ বা অবস্থান করার সময় নিয়মিত পানি পান হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
লবণ কমান: খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও বেশি সোডিয়ামযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো।
পর্যাপ্ত তরল পান করুন: দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন। গরম আবহাওয়া বা বেশি শারীরিক পরিশ্রমে তরলের প্রয়োজন বাড়তে পারে।
দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন না: এসিতে কাজ করার সময় মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করুন এবং পানি পান করুন।
নিজের ঝুঁকি জানুন: আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও পানি পানের পরিকল্পনা করা ভালো।
তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা, বারবার বমি বা পানিশূন্যতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
তাই এসি ব্যবহারে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ঠান্ডা ঘরে থাকলেও নিয়মিত পানি পান, অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা এবং নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গরম থেকে স্বস্তি পেতে কর্মক্ষেত্র, গাড়ি কিংবা শোবার ঘরে অনেকেই দীর্ঘ সময় এসি ব্যবহার করেন। দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকা এখন অনেকের নিয়মিত অভ্যাস। কিন্তু এসির ঠান্ডা পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে কি সরাসরি কিডনিতে পাথর হয়?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, এসি নিজে কিডনিতে পাথর তৈরি করে এমন প্রমাণ নেই। তবে এসিতে থাকার কারণে তৃষ্ণা কম অনুভূত হলে এবং পানি খাওয়ার পরিমাণ কমে গেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। আর পানিশূন্যতা কিডনিতে পাথর তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলোর একটি।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। তখন প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম, অক্সালেটসহ কিছু খনিজ ও লবণের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে ক্রিস্টাল তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে এসব ক্রিস্টাল বড় হয়ে কিডনিতে পাথরে পরিণত হতে পারে।
অর্থাৎ সমস্যার মূল কারণ এসির ঠান্ডা বাতাস নয়, বরং পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া পানিশূন্যতা।
কিন্তু পানি কম খেলে প্রস্রাব ঘন হয়। তখন পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখা কিছু উপাদান একত্র হয়ে ক্রিস্টাল তৈরি করতে পারে। পরে সেই ক্রিস্টাল বড় হয়ে পাথরে পরিণত হতে পারে।
বিশেষ করে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ কিডনিতে পাথরের কিছু ধরনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কাজের টেবিলে পানির বোতল রাখলে পানি খাওয়ার কথা মনে রাখা সহজ হয়। তবে সবার পানির প্রয়োজন এক নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর তরলের প্রয়োজন নির্ভর করে।
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি। পর্যাপ্ত পানি প্রস্রাবকে পাতলা রাখতে এবং পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখা খনিজ শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
তাই দীর্ঘ সময় এসিতে কাজ বা অবস্থান করার সময় নিয়মিত পানি পান হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
লবণ কমান: খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও বেশি সোডিয়ামযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো।
পর্যাপ্ত তরল পান করুন: দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন। গরম আবহাওয়া বা বেশি শারীরিক পরিশ্রমে তরলের প্রয়োজন বাড়তে পারে।
দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন না: এসিতে কাজ করার সময় মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করুন এবং পানি পান করুন।
নিজের ঝুঁকি জানুন: আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও পানি পানের পরিকল্পনা করা ভালো।
তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা, বারবার বমি বা পানিশূন্যতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
তাই এসি ব্যবহারে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ঠান্ডা ঘরে থাকলেও নিয়মিত পানি পান, অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা এবং নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।
