বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আরও

পড়ার পর নিজেকে প্রশ্ন কর

মনে মনে নাকি শব্দ করে, কোনভাবে পড়লে বেশি মনে থাকে?

মনে মনে নাকি শব্দ করে, কোনভাবে পড়লে বেশি মনে থাকে?
ছবি : টিভি ৯

পড়াশোনার সময় কেউ মনে মনে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কেউ শব্দ করে না পড়লে বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত ধারণা শব্দ করে পড়লে পড়া বেশি মনে থাকে। কিন্তু বাস্তবে কোন পদ্ধতি বেশি কার্যকর?

আসলে মনে মনে পড়া ও শব্দ করে পড়া দুটোরই আলাদা সুবিধা রয়েছে। কী পড়ছেন, কেন পড়ছেন এবং লক্ষ্য দ্রুত পড়া, বোঝা নাকি মনে রাখা তার ওপর পদ্ধতির কার্যকারিতা নির্ভর করতে পারে।

মনে মনে পড়লে প্রতিটি শব্দ মুখে উচ্চারণ করতে হয় না। ফলে তুলনামূলক দ্রুত পড়া যায় এবং কম সময়ে বেশি লেখা শেষ করা সম্ভব। বড় অধ্যায়, গল্প, সংবাদ বা পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশনের ক্ষেত্রে নীরবে পড়া সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে নীরবে পড়ার সময় মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় চোখ বইয়ের পাতায় থাকলেও পড়া বিষয়টি ঠিকমতো মাথায় ঢোকে না।

এ কারণে কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে কী পড়লাম, মূল বিষয় কী এবং নিজের ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারছি কি না।

শব্দ করে পড়ার সময় চোখে লেখা দেখার পাশাপাশি নিজের কণ্ঠও শোনা যায়। গবেষণায় এই সুবিধাকে ‘প্রোডাকশন ইফেক্ট’ বলা হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দ করে পড়লে নির্দিষ্ট তথ্য পরে মনে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে নতুন শব্দ, ভাষা শেখা, কবিতা বা কঠিন কোনো বিষয় অনুশীলনের সময় শব্দ করে পড়া কাজে লাগতে পারে। উচ্চারণের ভুলও সহজে ধরা পড়ে, বিশেষ করে নতুন ভাষা শেখার ক্ষেত্রে।

না। শব্দ করে পড়ার স্মৃতিগত সুবিধা থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের পড়াশোনায় জোরে পড়াই সবচেয়ে কার্যকর।

২০২৪ সালে Memory & Cognition জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় শব্দ করে পড়ার ফলে পাঠ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধার কথা উঠে এসেছে। তবে বিষয়টির গভীর অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা সব পরিস্থিতিতে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ কোনো তথ্য মনে রাখার জন্য শব্দ করে পড়া সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শুধু শব্দ করে পড়লেই বিষয়টি গভীরভাবে বোঝা নিশ্চিত হয় না।

পড়ার সঙ্গে Active Recall বা সক্রিয়ভাবে মনে করার অভ্যাস যুক্ত করা যেতে পারে। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করুন

  • কী পড়লাম?
  • মূল বিষয় কী?
  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো কী?
  • নিজের ভাষায় কাউকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে পারব কি?

বই বন্ধ করে উত্তর দেওয়ার এই অনুশীলন স্মৃতি থেকে তথ্য বের করে আনার অভ্যাস তৈরি করে। শুধু বারবার পড়ার বদলে এভাবে নিজেকে যাচাই করা শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে পারে।

বিষয় অনুযায়ী পড়ার পদ্ধতি বদলানো যেতে পারে।

বড় অধ্যায় দ্রুত পড়তে: মনে মনে পড়ুন।
নতুন শব্দ বা ভাষা শিখতে: কিছু অংশ শব্দ করে পড়ুন।
কঠিন তথ্য মনে রাখতে: শব্দ করে পড়ার পাশাপাশি লিখে বা নিজের ভাষায় বলুন।
বোঝাপড়া যাচাই করতে: বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করুন।
দ্রুত রিভিশনে: নীরবে পড়া ব্যবহার করতে পারেন।

শব্দ করে পড়ার আরেকটি সুবিধা হলো কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কারণ পড়ার সময় নিজের কণ্ঠ ও উচ্চারণের প্রতি মনোযোগ দিতে হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ফল হবে এমন নয়।

সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি হতে পারে দুটো কৌশল মিলিয়ে ব্যবহার করা।

প্রথমে মনে মনে পড়ে বিষয়টির সামগ্রিক ধারণা নেওয়া যায়। এরপর কঠিন বা গুরুত্বপূর্ণ অংশ শব্দ করে পড়া যেতে পারে। সবশেষে বই বন্ধ করে নিজের ভাষায় বিষয়টি মনে করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

তাই মনে মনে পড়া নাকি শব্দ করে পড়া এর একক কোনো উত্তর নেই। দ্রুত পড়ার ক্ষেত্রে নীরব পাঠ সুবিধাজনক হতে পারে, আর নির্দিষ্ট তথ্য মনে রাখা, নতুন শব্দ বা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শব্দ করে পড়া উপকারী হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পড়ার পর কতটা বুঝেছেন এবং কতটা মনে রাখতে পারছেন। তাই পড়ার পদ্ধতির সঙ্গে বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করা ও নিজের ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করার অভ্যাস যুক্ত করাই হতে পারে কার্যকর শেখার কৌশল।

#পড়াশোনা #স্মৃতিশক্তি #পড়ারকৌশল

চেকপোস্ট

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


মনে মনে নাকি শব্দ করে, কোনভাবে পড়লে বেশি মনে থাকে?

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পড়াশোনার সময় কেউ মনে মনে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কেউ শব্দ করে না পড়লে বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত ধারণা শব্দ করে পড়লে পড়া বেশি মনে থাকে। কিন্তু বাস্তবে কোন পদ্ধতি বেশি কার্যকর?

আসলে মনে মনে পড়া ও শব্দ করে পড়া দুটোরই আলাদা সুবিধা রয়েছে। কী পড়ছেন, কেন পড়ছেন এবং লক্ষ্য দ্রুত পড়া, বোঝা নাকি মনে রাখা তার ওপর পদ্ধতির কার্যকারিতা নির্ভর করতে পারে।

মনে মনে পড়লে প্রতিটি শব্দ মুখে উচ্চারণ করতে হয় না। ফলে তুলনামূলক দ্রুত পড়া যায় এবং কম সময়ে বেশি লেখা শেষ করা সম্ভব। বড় অধ্যায়, গল্প, সংবাদ বা পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশনের ক্ষেত্রে নীরবে পড়া সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে নীরবে পড়ার সময় মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় চোখ বইয়ের পাতায় থাকলেও পড়া বিষয়টি ঠিকমতো মাথায় ঢোকে না।

এ কারণে কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে কী পড়লাম, মূল বিষয় কী এবং নিজের ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারছি কি না।

শব্দ করে পড়ার সময় চোখে লেখা দেখার পাশাপাশি নিজের কণ্ঠও শোনা যায়। গবেষণায় এই সুবিধাকে ‘প্রোডাকশন ইফেক্ট’ বলা হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দ করে পড়লে নির্দিষ্ট তথ্য পরে মনে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে নতুন শব্দ, ভাষা শেখা, কবিতা বা কঠিন কোনো বিষয় অনুশীলনের সময় শব্দ করে পড়া কাজে লাগতে পারে। উচ্চারণের ভুলও সহজে ধরা পড়ে, বিশেষ করে নতুন ভাষা শেখার ক্ষেত্রে।

না। শব্দ করে পড়ার স্মৃতিগত সুবিধা থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের পড়াশোনায় জোরে পড়াই সবচেয়ে কার্যকর।

২০২৪ সালে Memory & Cognition জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় শব্দ করে পড়ার ফলে পাঠ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধার কথা উঠে এসেছে। তবে বিষয়টির গভীর অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা সব পরিস্থিতিতে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ কোনো তথ্য মনে রাখার জন্য শব্দ করে পড়া সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শুধু শব্দ করে পড়লেই বিষয়টি গভীরভাবে বোঝা নিশ্চিত হয় না।

পড়ার সঙ্গে Active Recall বা সক্রিয়ভাবে মনে করার অভ্যাস যুক্ত করা যেতে পারে। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করুন

  • কী পড়লাম?
  • মূল বিষয় কী?
  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো কী?
  • নিজের ভাষায় কাউকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে পারব কি?

বই বন্ধ করে উত্তর দেওয়ার এই অনুশীলন স্মৃতি থেকে তথ্য বের করে আনার অভ্যাস তৈরি করে। শুধু বারবার পড়ার বদলে এভাবে নিজেকে যাচাই করা শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে পারে।

বিষয় অনুযায়ী পড়ার পদ্ধতি বদলানো যেতে পারে।

বড় অধ্যায় দ্রুত পড়তে: মনে মনে পড়ুন।
নতুন শব্দ বা ভাষা শিখতে: কিছু অংশ শব্দ করে পড়ুন।
কঠিন তথ্য মনে রাখতে: শব্দ করে পড়ার পাশাপাশি লিখে বা নিজের ভাষায় বলুন।
বোঝাপড়া যাচাই করতে: বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করুন।
দ্রুত রিভিশনে: নীরবে পড়া ব্যবহার করতে পারেন।

শব্দ করে পড়ার আরেকটি সুবিধা হলো কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কারণ পড়ার সময় নিজের কণ্ঠ ও উচ্চারণের প্রতি মনোযোগ দিতে হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ফল হবে এমন নয়।

সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি হতে পারে দুটো কৌশল মিলিয়ে ব্যবহার করা।

প্রথমে মনে মনে পড়ে বিষয়টির সামগ্রিক ধারণা নেওয়া যায়। এরপর কঠিন বা গুরুত্বপূর্ণ অংশ শব্দ করে পড়া যেতে পারে। সবশেষে বই বন্ধ করে নিজের ভাষায় বিষয়টি মনে করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

তাই মনে মনে পড়া নাকি শব্দ করে পড়া এর একক কোনো উত্তর নেই। দ্রুত পড়ার ক্ষেত্রে নীরব পাঠ সুবিধাজনক হতে পারে, আর নির্দিষ্ট তথ্য মনে রাখা, নতুন শব্দ বা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শব্দ করে পড়া উপকারী হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পড়ার পর কতটা বুঝেছেন এবং কতটা মনে রাখতে পারছেন। তাই পড়ার পদ্ধতির সঙ্গে বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করা ও নিজের ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করার অভ্যাস যুক্ত করাই হতে পারে কার্যকর শেখার কৌশল।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত