শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বানিয়াচংয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে নিখোঁজ তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী

শেখ বেলাল::
শেখ বেলাল::
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
বানিয়াচংয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে নিখোঁজ তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী
ফাবিয়া তাবাসসুম মীম। ফাইল ছবি

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে ১০ বছরের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাবিয়া তাবাসসুম মীম। প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় যাওয়ার পর ছুটির সময় অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বানিয়াচং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে মীমের পরিবার। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে বাবা-মায়ের।

নিখোঁজ ফাবিয়া তাবাসসুম মীম উপজেলার ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকার বাসিন্দা খোয়াজ আলী মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় দারুল হিকমাহ তা'লীমুল কুরআন একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাগরিবের নামাজের সময় প্রতিদিনের মতো সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসায় যায় মীম। এশার আজানের সময় মাদ্রাসা ছুটি হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। কিন্তু মীম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মাদ্রাসায় গিয়ে খোঁজ নেন তারা। সেখানে মীমের বই, খাতা, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মীমের স্বজনদের দাবি, কয়েকজন সহপাঠী তাকে বিকেল পর্যন্ত মাদ্রাসায় দেখেছে। এ কারণে মাদ্রাসা থেকেই সে নিখোঁজ হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সকালে মাদ্রাসায় আসার পর বিকেল ৩টার পর মীমকে আর সেখানে দেখা যায়নি।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সকালে মীমের মাদ্রাসায় প্রবেশ এবং বিকেলে বের হওয়ার দৃশ্য পাওয়া গেছে। তবে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর সে কোন দিকে গেছে বা কার সঙ্গে গেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মীম নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে ছুটছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, পরিচিতজনদের বাসাবাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে শিশুটির সন্ধান চাওয়া হচ্ছে। পাড়া-প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মীমের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে, শিশুটির সন্ধানে বানিয়াচং থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে পরিবার। পুলিশও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মীমকে উদ্ধারে কাজ করছে।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, মীমকে উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি চৌকস দল কাজ করছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে শিশুটির সন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দ্রুতই মীমকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে, মেয়ের নিখোঁজের ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন মীমের বাবা-মা। কখনো মাদ্রাসায়, কখনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কখনো পরিচিত-অপরিচিত বিভিন্ন জায়গায় মেয়ের সন্ধানে ছুটছেন তারা। প্রতিটি ফোনকলেই তারা আশায় বুক বাঁধছেন, হয়তো এবার মিলবে মীমের খবর। কিন্তু প্রতিবারই হতাশ হতে হচ্ছে তাদের।

পরিবারের একটাই প্রত্যাশা, দ্রুত তাদের মেয়ের সন্ধান মিলবে এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসবে মীম। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


বানিয়াচংয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে নিখোঁজ তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে ১০ বছরের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাবিয়া তাবাসসুম মীম। প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় যাওয়ার পর ছুটির সময় অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বানিয়াচং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে মীমের পরিবার। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে বাবা-মায়ের।

নিখোঁজ ফাবিয়া তাবাসসুম মীম উপজেলার ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকার বাসিন্দা খোয়াজ আলী মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় দারুল হিকমাহ তা'লীমুল কুরআন একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাগরিবের নামাজের সময় প্রতিদিনের মতো সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসায় যায় মীম। এশার আজানের সময় মাদ্রাসা ছুটি হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। কিন্তু মীম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মাদ্রাসায় গিয়ে খোঁজ নেন তারা। সেখানে মীমের বই, খাতা, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মীমের স্বজনদের দাবি, কয়েকজন সহপাঠী তাকে বিকেল পর্যন্ত মাদ্রাসায় দেখেছে। এ কারণে মাদ্রাসা থেকেই সে নিখোঁজ হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সকালে মাদ্রাসায় আসার পর বিকেল ৩টার পর মীমকে আর সেখানে দেখা যায়নি।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সকালে মীমের মাদ্রাসায় প্রবেশ এবং বিকেলে বের হওয়ার দৃশ্য পাওয়া গেছে। তবে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর সে কোন দিকে গেছে বা কার সঙ্গে গেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মীম নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে ছুটছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, পরিচিতজনদের বাসাবাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে শিশুটির সন্ধান চাওয়া হচ্ছে। পাড়া-প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মীমের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে, শিশুটির সন্ধানে বানিয়াচং থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে পরিবার। পুলিশও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মীমকে উদ্ধারে কাজ করছে।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, মীমকে উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি চৌকস দল কাজ করছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে শিশুটির সন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দ্রুতই মীমকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে, মেয়ের নিখোঁজের ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন মীমের বাবা-মা। কখনো মাদ্রাসায়, কখনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কখনো পরিচিত-অপরিচিত বিভিন্ন জায়গায় মেয়ের সন্ধানে ছুটছেন তারা। প্রতিটি ফোনকলেই তারা আশায় বুক বাঁধছেন, হয়তো এবার মিলবে মীমের খবর। কিন্তু প্রতিবারই হতাশ হতে হচ্ছে তাদের।

পরিবারের একটাই প্রত্যাশা, দ্রুত তাদের মেয়ের সন্ধান মিলবে এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসবে মীম। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত