বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথার চুল ও দাড়ি পেকে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে অনেকেই বয়সের ছাপ লুকাতে সাদা চুল বা দাড়ি তুলে ফেলেন। আবার কেউ কেউ চুল-দাড়িতে কালো কলপ ব্যবহার করেন। ইসলামী শরিয়তে এসব বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাদা চুল তুলে না ফেলতে, কারণ কেয়ামতের দিন তা আলো হবে। বার্ধক্যের কারণে কোনো মুসলিমের চুল সাদা হলে প্রতিটি সাদা চুলের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব লেখা, একটি করে গুনাহ মাফ এবং একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়।
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৪৪৫৮
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাকা চুল-দাড়ি তুলে না ফেলতে; কারণ ইসলামের মধ্যে থাকা অবস্থায় কারও চুল পেকে গেলে কেয়ামতের দিন তা তার জন্য জ্যোতি হবে।
সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৫
এ বিষয়ে সুনানে আবু দাউদেও নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সেখানে সাদা পাকা চুল উপড়ে না ফেলার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন তা মুসলিমের জন্য জ্যোতি হবে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২০৪
মক্কা বিজয়ের দিন আবু বকর (রা.)-এর পিতা আবু কুহাফা (রা.)-এর চুল ও দাড়ি পাকা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) তা পরিবর্তন করার নির্দেশ দেন এবং কালো রং থেকে বিরত থাকতে বলেন।
সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৪৬৬
আরেক হাদিসে কালো কলপ ব্যবহারকারীদের বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২০৯
আহমাদ আলি সাহারানপুরী (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কালো কলপ নিষেধের অন্যতম কারণ হলো অন্যের কাছে বয়স গোপন করে প্রতারণা করা। যুবকের ক্ষেত্রে এ কারণটি না থাকায় কিছু ফকিহ কালো কলপ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।
হাশিয়া সহিহ বুখারি, ১/৫৩০; ফায়যুল কাদির, ১/৩৩৬
তবে যেহেতু হাদিসে কালো কলপ থেকে বিশেষভাবে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে, তাই একেবারে কালো রং ব্যবহার না করে অন্য রং বা লাল-কালো মিশ্রিত রং ব্যবহারের কথা কিছু আলেম উল্লেখ করেছেন।
সারকথা: হাদিসে সাদা বা পাকা চুল-দাড়ি উপড়ে ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পাকা চুলকে কেয়ামতের দিনের আলো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বার্ধক্যের সাদা চুলে একেবারে কালো কলপ ব্যবহারের বিষয়ে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথার চুল ও দাড়ি পেকে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে অনেকেই বয়সের ছাপ লুকাতে সাদা চুল বা দাড়ি তুলে ফেলেন। আবার কেউ কেউ চুল-দাড়িতে কালো কলপ ব্যবহার করেন। ইসলামী শরিয়তে এসব বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাদা চুল তুলে না ফেলতে, কারণ কেয়ামতের দিন তা আলো হবে। বার্ধক্যের কারণে কোনো মুসলিমের চুল সাদা হলে প্রতিটি সাদা চুলের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব লেখা, একটি করে গুনাহ মাফ এবং একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়।
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৪৪৫৮
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাকা চুল-দাড়ি তুলে না ফেলতে; কারণ ইসলামের মধ্যে থাকা অবস্থায় কারও চুল পেকে গেলে কেয়ামতের দিন তা তার জন্য জ্যোতি হবে।
সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৫
এ বিষয়ে সুনানে আবু দাউদেও নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সেখানে সাদা পাকা চুল উপড়ে না ফেলার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন তা মুসলিমের জন্য জ্যোতি হবে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২০৪
মক্কা বিজয়ের দিন আবু বকর (রা.)-এর পিতা আবু কুহাফা (রা.)-এর চুল ও দাড়ি পাকা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) তা পরিবর্তন করার নির্দেশ দেন এবং কালো রং থেকে বিরত থাকতে বলেন।
সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৪৬৬
আরেক হাদিসে কালো কলপ ব্যবহারকারীদের বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২০৯
আহমাদ আলি সাহারানপুরী (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কালো কলপ নিষেধের অন্যতম কারণ হলো অন্যের কাছে বয়স গোপন করে প্রতারণা করা। যুবকের ক্ষেত্রে এ কারণটি না থাকায় কিছু ফকিহ কালো কলপ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।
হাশিয়া সহিহ বুখারি, ১/৫৩০; ফায়যুল কাদির, ১/৩৩৬
তবে যেহেতু হাদিসে কালো কলপ থেকে বিশেষভাবে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে, তাই একেবারে কালো রং ব্যবহার না করে অন্য রং বা লাল-কালো মিশ্রিত রং ব্যবহারের কথা কিছু আলেম উল্লেখ করেছেন।
সারকথা: হাদিসে সাদা বা পাকা চুল-দাড়ি উপড়ে ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পাকা চুলকে কেয়ামতের দিনের আলো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বার্ধক্যের সাদা চুলে একেবারে কালো কলপ ব্যবহারের বিষয়ে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।
