গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষা বিস্তার ও মানবিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে ‘টুংকো দাতব্য ফাউন্ডেশন’। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ সংস্কার এবং বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সংগঠনটি।
এর পাশাপাশি টুঙ্গিপাড়ার যুবসমাজের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ‘কিংডম অব লাইব্রেরি’। এর স্লোগান ‘চলো যাই, বই পড়ি’। পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সবার জন্য বই পড়ার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই পাঠাগার।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আজিম বাজার সংলগ্ন একটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ সংস্কার করেন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। একই দিন দুটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অসহায় পরিবারকে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা
এদিন টুঙ্গিপাড়ার বাশুড়িয়া গ্রামের অসহায় ও হতদরিদ্র নুর ইসলাম খাঁর পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া গজালিয়া গ্রামের কালিম শেখের ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা ওই নারীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি।
বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ ‘কিংডম অব লাইব্রেরিতে’
২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় টুংকো দাতব্য ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় রয়েছেন মো. শরিফুল ইসলাম। এটি সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত ও অলাভজনক সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে টুঙ্গিপাড়ার যুবকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে ‘কিংডম অব লাইব্রেরি’। এখানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সপ্তাহের সাত দিনই পাঠাগারটি খোলা থাকে।
পাঠাগারে রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান, ভূমি ও আইনবিষয়ক বই, পবিত্র কোরআনের ৩০ পারার খণ্ড, এপিজে আবদুল কালামের একাধিক বই, অগ্নিনির্বাপণবিষয়ক বই, চাকরির প্রস্তুতিমূলক বই এবং ডেল কার্নেগির আত্মউন্নয়নমূলক বই।
এ ছাড়া দেশি-বিদেশি লেখকদের বই, শিশুদের গল্পের বই এবং খেলাধুলাবিষয়ক বইও রয়েছে। পাঠাগারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বই কিনে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে বই উপহার দিয়ে সহযোগিতা করছেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে কোচিং
শুধু পাঠাগার পরিচালনাই নয়, টুংকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা মো. শরিফুল ইসলাম একজন প্রবাসী এবং গজালিয়া এলাকার বাসিন্দা। উপস্থিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিবি পুলিশের সদস্য বাবু খান।
অক্সিজেন সেবা থেকে শেষবিদায়ের প্রস্তুতিও
ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও গোপালগঞ্জের গোবরা পর্যন্ত মানুষের সেবায় কাজ করছেন।
সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা এবং শেষবিদায়ের গোসলের জন্য মুর্দা মশারি বিতরণ। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট ও মসজিদ সংস্কারসহ জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তাঁরা।
মানবিক কাজে একসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরা
শুক্রবারের এসব কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন শেখ অসিকুর রহমান, হাবিবুর হাবি শেখ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ডিবি পুলিশের সদস্য বাবু খান, মো. রুহুল শেখ, মো. ওমর মুন্সি, ওবায়দুল্লাহ মোল্লা, মো. এনামুল হক, শফিক খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ সময় ডিবি পুলিশের সদস্য বাবু খান বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তাঁর। আল্লাহ সামর্থ্য দিলে সব সময় মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা বিস্তার ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে ‘টুংকো দাতব্য ফাউন্ডেশন’ এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ, অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা এবং অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষা বিস্তার ও মানবিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে ‘টুংকো দাতব্য ফাউন্ডেশন’। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ সংস্কার এবং বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সংগঠনটি।
এর পাশাপাশি টুঙ্গিপাড়ার যুবসমাজের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ‘কিংডম অব লাইব্রেরি’। এর স্লোগান ‘চলো যাই, বই পড়ি’। পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সবার জন্য বই পড়ার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই পাঠাগার।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আজিম বাজার সংলগ্ন একটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ সংস্কার করেন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। একই দিন দুটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অসহায় পরিবারকে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা
এদিন টুঙ্গিপাড়ার বাশুড়িয়া গ্রামের অসহায় ও হতদরিদ্র নুর ইসলাম খাঁর পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া গজালিয়া গ্রামের কালিম শেখের ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা ওই নারীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি।
বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ ‘কিংডম অব লাইব্রেরিতে’
২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় টুংকো দাতব্য ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় রয়েছেন মো. শরিফুল ইসলাম। এটি সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত ও অলাভজনক সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে টুঙ্গিপাড়ার যুবকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে ‘কিংডম অব লাইব্রেরি’। এখানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সপ্তাহের সাত দিনই পাঠাগারটি খোলা থাকে।
পাঠাগারে রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান, ভূমি ও আইনবিষয়ক বই, পবিত্র কোরআনের ৩০ পারার খণ্ড, এপিজে আবদুল কালামের একাধিক বই, অগ্নিনির্বাপণবিষয়ক বই, চাকরির প্রস্তুতিমূলক বই এবং ডেল কার্নেগির আত্মউন্নয়নমূলক বই।
এ ছাড়া দেশি-বিদেশি লেখকদের বই, শিশুদের গল্পের বই এবং খেলাধুলাবিষয়ক বইও রয়েছে। পাঠাগারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বই কিনে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে বই উপহার দিয়ে সহযোগিতা করছেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে কোচিং
শুধু পাঠাগার পরিচালনাই নয়, টুংকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা মো. শরিফুল ইসলাম একজন প্রবাসী এবং গজালিয়া এলাকার বাসিন্দা। উপস্থিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিবি পুলিশের সদস্য বাবু খান।
অক্সিজেন সেবা থেকে শেষবিদায়ের প্রস্তুতিও
ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও গোপালগঞ্জের গোবরা পর্যন্ত মানুষের সেবায় কাজ করছেন।
সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা এবং শেষবিদায়ের গোসলের জন্য মুর্দা মশারি বিতরণ। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট ও মসজিদ সংস্কারসহ জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তাঁরা।
মানবিক কাজে একসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরা
শুক্রবারের এসব কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন শেখ অসিকুর রহমান, হাবিবুর হাবি শেখ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ডিবি পুলিশের সদস্য বাবু খান, মো. রুহুল শেখ, মো. ওমর মুন্সি, ওবায়দুল্লাহ মোল্লা, মো. এনামুল হক, শফিক খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ সময় ডিবি পুলিশের সদস্য বাবু খান বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তাঁর। আল্লাহ সামর্থ্য দিলে সব সময় মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা বিস্তার ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে ‘টুংকো দাতব্য ফাউন্ডেশন’ এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ, অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা এবং অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে।
