গরম ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি’ বাঙালি ও ভারতীয় উপমহাদেশের বহু পরিবারের পরিচিত খাবারের অভ্যাস। ঘির বিশেষ গন্ধ ও স্বাদ ভাত, ডাল কিংবা সবজির স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। তবে স্বাদের পাশাপাশি হজম, পুষ্টি শোষণ ও রক্তে শর্করার ওপরও এর কিছু প্রভাব থাকতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ঘি মেশানো ভাত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিশেষ উপায়।
বরং ঘি যোগ করলে খাবারের মোট ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণও বাড়ে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে শুধু ভাতে ঘি দেওয়ার চেয়ে ভাতের পরিমাণ, ডাল, সবজি, প্রোটিন ও পুরো দিনের খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গাজর, কুমড়া, পালং শাকসহ বিভিন্ন সবজিতে থাকা কিছু ক্যারোটিনয়েডের জৈবপ্রাপ্যতার সঙ্গে খাদ্যে চর্বির উপস্থিতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই ডাল-সবজির সঙ্গে অল্প ঘি খাবারের কিছু উপাদান শোষণে সহায়ক হতে পারে।
তবে এজন্য বেশি পরিমাণে ঘি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
ঘিতে থাকা বিউটেরেট নিয়েও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এক চামচ ঘি খেলেই উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাগত উপকার পাওয়া যাবে’ এমন দাবি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
তাই হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য সম্পৃক্ত চর্বির পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বির উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। বিশেষ করে যাদের কোলেস্টেরল বেশি বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ঘির পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তবে ঘি যেহেতু ক্যালরি ও সম্পৃক্ত চর্বিতে সমৃদ্ধ, তাই অল্প পরিমাণে খাওয়াই যুক্তিসঙ্গত। ভাতে ঘি দিলে একই খাবারে থাকা অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণও বিবেচনায় রাখা উচিত।
এতে খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন ও খনিজও যুক্ত হবে।
সারকথা: গরম ভাতে অল্প ঘি খাওয়া স্বাদ ও তৃপ্তি বাড়াতে পারে এবং খাবারের কিছু পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু ঘি কোনো জাদুকরী স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ওজন কমানোর উপায় হিসেবে ভাতে ঘি যোগ করার ধারণা ঠিক নয়। পরিমিত ঘি ও সামগ্রিক ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গরম ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি’ বাঙালি ও ভারতীয় উপমহাদেশের বহু পরিবারের পরিচিত খাবারের অভ্যাস। ঘির বিশেষ গন্ধ ও স্বাদ ভাত, ডাল কিংবা সবজির স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। তবে স্বাদের পাশাপাশি হজম, পুষ্টি শোষণ ও রক্তে শর্করার ওপরও এর কিছু প্রভাব থাকতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ঘি মেশানো ভাত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিশেষ উপায়।
বরং ঘি যোগ করলে খাবারের মোট ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণও বাড়ে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে শুধু ভাতে ঘি দেওয়ার চেয়ে ভাতের পরিমাণ, ডাল, সবজি, প্রোটিন ও পুরো দিনের খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গাজর, কুমড়া, পালং শাকসহ বিভিন্ন সবজিতে থাকা কিছু ক্যারোটিনয়েডের জৈবপ্রাপ্যতার সঙ্গে খাদ্যে চর্বির উপস্থিতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই ডাল-সবজির সঙ্গে অল্প ঘি খাবারের কিছু উপাদান শোষণে সহায়ক হতে পারে।
তবে এজন্য বেশি পরিমাণে ঘি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
ঘিতে থাকা বিউটেরেট নিয়েও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এক চামচ ঘি খেলেই উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাগত উপকার পাওয়া যাবে’ এমন দাবি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
তাই হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য সম্পৃক্ত চর্বির পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বির উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। বিশেষ করে যাদের কোলেস্টেরল বেশি বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ঘির পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তবে ঘি যেহেতু ক্যালরি ও সম্পৃক্ত চর্বিতে সমৃদ্ধ, তাই অল্প পরিমাণে খাওয়াই যুক্তিসঙ্গত। ভাতে ঘি দিলে একই খাবারে থাকা অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণও বিবেচনায় রাখা উচিত।
এতে খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন ও খনিজও যুক্ত হবে।
সারকথা: গরম ভাতে অল্প ঘি খাওয়া স্বাদ ও তৃপ্তি বাড়াতে পারে এবং খাবারের কিছু পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু ঘি কোনো জাদুকরী স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ওজন কমানোর উপায় হিসেবে ভাতে ঘি যোগ করার ধারণা ঠিক নয়। পরিমিত ঘি ও সামগ্রিক ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
