খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোনাডাঙ্গায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ (ব্লকেড) কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসকের আশ্বাসের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা সড়কের মাঝখানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পার হলেও এজাহারনামীয় কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
অবরোধের কারণে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা ১১টার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মাদ শাহনেওয়াজ খালেদ এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
আলোচনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মাদ শাহনেওয়াজ খালেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের একাধিক অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে তদন্তের অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
পুলিশের এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বেলা দেড়টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত আজমুল ওরফে আযম চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের কুতুবের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীত গলির আকিবের বাড়ির পঞ্চম তলার একটি মেসের ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
শুক্রবার রাতে মেসে ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাকে বাড়ির ছাদে নিয়ে সেখান থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আজমুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোনাডাঙ্গায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ (ব্লকেড) কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসকের আশ্বাসের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা সড়কের মাঝখানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পার হলেও এজাহারনামীয় কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
অবরোধের কারণে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা ১১টার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মাদ শাহনেওয়াজ খালেদ এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
আলোচনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মাদ শাহনেওয়াজ খালেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের একাধিক অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে তদন্তের অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
পুলিশের এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বেলা দেড়টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত আজমুল ওরফে আযম চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের কুতুবের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীত গলির আকিবের বাড়ির পঞ্চম তলার একটি মেসের ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
শুক্রবার রাতে মেসে ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাকে বাড়ির ছাদে নিয়ে সেখান থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আজমুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
