শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

ইসলাম

নখ কাটলে অজু নষ্ট হয় না

অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়? ইসলামের বিধান

অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়? ইসলামের বিধান
সপ্তাহে একদিন নখ কাটাকে সুন্নত হিসেবে ধরা হয়। ছবি : সংগৃহীত

অজু ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামাজ আদায়ের আগে অজু করা আবশ্যক। এ ছাড়া কোরআন স্পর্শসহ বিভিন্ন ইবাদতের ক্ষেত্রেও পবিত্রতার বিধান রয়েছে। তবে অজু করার পর নখ কাটলে অজু ভেঙে যায় এমন ধারণা অনেকের মধ্যে প্রচলিত। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, অজুর পর নখ কাটলে অজু ভাঙে না। নতুন করে অজু করারও প্রয়োজন নেই।

অজুর ফরজ কয়টি?

পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে অজুর বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, মুমিনরা যখন নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তারা যেন মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করে, মাথা মাসেহ করে এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধুয়ে নেয়।

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, অজুর ফরজ চারটি—

- সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধৌত করা।

- দুই হাত কনুইসহ ধৌত করা।

- মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা।

- দুই পা টাখনুসহ ধৌত করা।

এসব ফরজ যথাযথভাবে আদায় হলে অজু সম্পন্ন হয়।

নখ কাটলে কি অজু নষ্ট হয়?

ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দাড়ি-গোঁফ পরিপাটি রাখা, শরীরের প্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত নখ কাটাও পরিচ্ছন্নতার অংশ। নখ কাটা সুন্নতে ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত।

তবে অজু করার পর নখ কাটলে অজু নষ্ট হয়ে যায় এ ধারণার পক্ষে শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই। অজু ভঙ্গের স্বীকৃত কারণগুলোর মধ্যে নখ কাটার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে অজু করার পর নখ কাটলেও আগের অজু বহাল থাকবে।

অজু ভঙ্গের কারণগুলো কী?

হানাফি মাজহাবের ফিকহি বিধান অনুযায়ী, অজু ভঙ্গের উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—

১. পায়খানা বা প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।

২. শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বা অন্য কোনো তরল বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।

৩. মুখ ভরে বমি হওয়া।

৪. থুতুর সঙ্গে রক্তের পরিমাণ সমান বা বেশি হওয়া।

৫. শুয়ে বা হেলান দিয়ে এমনভাবে ঘুমানো, যাতে অজু ভঙ্গ হয়।

৬. পাগল, মাতাল বা অচেতন হয়ে যাওয়া।

৭. নামাজের মধ্যে উচ্চস্বরে হাসা।

এসব কারণের কোনোটি ঘটলে পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ফিকহি বিধান অনুযায়ী অজু ভেঙে যেতে পারে। তবে নখ কাটা এসব কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ফতোয়ায় কী বলা হয়েছে?

ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসার-এর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অজুর পর নখ কাটলে নতুন করে অজু করা কিংবা নখ কাটার স্থান ধোয়া আবশ্যক নয়।

এ বিষয়ে তাবেয়ি ইউনুস (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হাসান বসরি (রহ.)-কে অজুর পর চুল ও নখ কাটলে পুনরায় ওই স্থান ধোয়া বা অজু করা আবশ্যক কি না—জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এর কোনোটিই আবশ্যক নয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, বর্ণনা: ৫৭৬)

সুতরাং, অজু করার পর নখ কাটলে অজু ভাঙে না এবং নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই। তবে অজু ভঙ্গের অন্য কোনো কারণ ঘটলে নতুন করে অজু করতে হবে।

#অজুরবিধান #ইসলামিকপ্রশ্ন #নখকাটারবিধান

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়? ইসলামের বিধান

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অজু ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামাজ আদায়ের আগে অজু করা আবশ্যক। এ ছাড়া কোরআন স্পর্শসহ বিভিন্ন ইবাদতের ক্ষেত্রেও পবিত্রতার বিধান রয়েছে। তবে অজু করার পর নখ কাটলে অজু ভেঙে যায় এমন ধারণা অনেকের মধ্যে প্রচলিত। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, অজুর পর নখ কাটলে অজু ভাঙে না। নতুন করে অজু করারও প্রয়োজন নেই।

অজুর ফরজ কয়টি?

পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে অজুর বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, মুমিনরা যখন নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তারা যেন মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করে, মাথা মাসেহ করে এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধুয়ে নেয়।

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, অজুর ফরজ চারটি—

- সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধৌত করা।

- দুই হাত কনুইসহ ধৌত করা।

- মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা।

- দুই পা টাখনুসহ ধৌত করা।

এসব ফরজ যথাযথভাবে আদায় হলে অজু সম্পন্ন হয়।

নখ কাটলে কি অজু নষ্ট হয়?

ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দাড়ি-গোঁফ পরিপাটি রাখা, শরীরের প্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত নখ কাটাও পরিচ্ছন্নতার অংশ। নখ কাটা সুন্নতে ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত।

তবে অজু করার পর নখ কাটলে অজু নষ্ট হয়ে যায় এ ধারণার পক্ষে শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই। অজু ভঙ্গের স্বীকৃত কারণগুলোর মধ্যে নখ কাটার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে অজু করার পর নখ কাটলেও আগের অজু বহাল থাকবে।

অজু ভঙ্গের কারণগুলো কী?

হানাফি মাজহাবের ফিকহি বিধান অনুযায়ী, অজু ভঙ্গের উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—

১. পায়খানা বা প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।

২. শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বা অন্য কোনো তরল বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।

৩. মুখ ভরে বমি হওয়া।

৪. থুতুর সঙ্গে রক্তের পরিমাণ সমান বা বেশি হওয়া।

৫. শুয়ে বা হেলান দিয়ে এমনভাবে ঘুমানো, যাতে অজু ভঙ্গ হয়।

৬. পাগল, মাতাল বা অচেতন হয়ে যাওয়া।

৭. নামাজের মধ্যে উচ্চস্বরে হাসা।

এসব কারণের কোনোটি ঘটলে পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ফিকহি বিধান অনুযায়ী অজু ভেঙে যেতে পারে। তবে নখ কাটা এসব কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ফতোয়ায় কী বলা হয়েছে?

ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসার-এর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অজুর পর নখ কাটলে নতুন করে অজু করা কিংবা নখ কাটার স্থান ধোয়া আবশ্যক নয়।

এ বিষয়ে তাবেয়ি ইউনুস (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হাসান বসরি (রহ.)-কে অজুর পর চুল ও নখ কাটলে পুনরায় ওই স্থান ধোয়া বা অজু করা আবশ্যক কি না—জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এর কোনোটিই আবশ্যক নয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, বর্ণনা: ৫৭৬)

সুতরাং, অজু করার পর নখ কাটলে অজু ভাঙে না এবং নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই। তবে অজু ভঙ্গের অন্য কোনো কারণ ঘটলে নতুন করে অজু করতে হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত