বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

হুতিদের ঠেকাতে জাতিসংঘের দ্বারস্থ সৌদি জোট, লোহিত সাগরে নতুন সংকট!

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতায় নতুন করে চাপে পড়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই নৌপথে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এবার জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার।হুতিদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক এলাকায় মাইন স্থাপন এবং বেসামরিক জনবসতিতে বিস্ফোরক পুঁতে রাখার অভিযোগ তুলে দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।বিবৃতিতে বলা হয়, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুতিদের মাইন স্থাপনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধির কাছে ইতোমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে।সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, হুতিরা সামুদ্রিক এলাকার পাশাপাশি গ্রাম, জনবসতি, কৃষিজমি ও সংযোগ সড়কে ছদ্মবেশী অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন পুঁতে রাখছে। এসব বিস্ফোরক সাধারণ মানুষের চলাচল ও জীবনযাত্রাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এসব ঘটনার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, বিভিন্ন পাহাড়, বাড়িঘর ও চলাচলের পথে লুকিয়ে রাখা মাইনের কারণে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম মাইনদূষিত দেশে পরিণত হয়েছে।এসব অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকের কারণে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে সরকার।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক এলাকা থেকে মাইন অপসারণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে ইয়েমেন। একই সঙ্গে মাইন বিস্ফোরণে হতাহতদের পরিবারকে জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ইউএনডিপির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।হুতিদের সঙ্গে সমঝোতায় সৌদির ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব!হুতিদের সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও সামনে এসেছে। এর আগে জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে হুতিদের ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল রিয়াদ।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে করে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে তেহরানে গিয়েছিলেন। তবে হুতিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে চেয়েছিল সৌদি আরবএর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিল সৌদি আরব। এ বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল উপসাগরীয় দেশটির নেতৃত্ব।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি সমঝোতা হয়েছে। ওই চুক্তির শর্ত অনুসারে, হুতিরা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রও হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়াবে না।সব মিলিয়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে হুতিদের সামরিক তৎপরতা, অন্যদিকে সৌদি আরবের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা এখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

হুতিদের ঠেকাতে জাতিসংঘের দ্বারস্থ সৌদি জোট, লোহিত সাগরে নতুন সংকট!