শত নির্যাতনেও আদর্শচ্যুত হননি সালাউদ্দিন আহমেদ: রিজভী
শত নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখেও বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের নীতি থেকে বিচ্যুত হননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ সালাউদ্দিন আহমেদের জানাজার আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন, নানা নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও সালাউদ্দিন আহমেদ বিচলিত হননি। তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা অনেক জাতীয় নেতার পক্ষেও স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। দলের নীতি, কর্মসূচি ও নেতৃত্বের প্রতি তাঁর একাগ্রতা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।‘নির্যাতনের ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছেন সালাউদ্দিন’সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুকে স্বাভাবিক প্রয়াণ নয় বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তাঁর অভিযোগ, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের প্রভাবেই এই অকাল মৃত্যু হয়েছে।তিনি বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদ ছিলেন অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারিয়েছে। শারীরিকভাবে চলে গেলেও তাঁর ত্যাগ ও রাজনৈতিক আদর্শ নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।কারাগারে অসুস্থ হলেও চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়নি: রিজভীঅতীত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আন্দোলনের সময় সালাউদ্দিন আহমেদকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। কারাগারে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁকে জামিন দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলেও দাবি করেন রিজভী।তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের আমলে সারা দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকেও নির্যাতন ও অন্তরীণ করে রাখা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণা হয়ে থাকবেন সালাউদ্দিনবর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দেশে বর্তমানে যে গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা বেশিদিন উপভোগ করতে পারেননি সালাউদ্দিন আহমেদ। তবে একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে রিজভী বলেন, যতদিন তাঁরা বেঁচে থাকবেন, ততদিন সালাউদ্দিন আহমেদের আদর্শ তাঁদের কাছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও প্রেরণা হয়ে থাকবে।জানাজায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরাসালাউদ্দিন আহমেদের জানাজার আগে দেওয়া বক্তব্যের সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইসরাক হোসেন এমপি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, আমানুল্লাহ আমান এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু এমপি, শ্রমিক দলের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এমপি ও হাবিবুন্নবী খান সোহেল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।