রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয় স্থানান্তরে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তর করা হচ্ছে সচিবালয়। নতুন কমপ্লেক্সে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।৩১ একরের বেশি জমিতে ১৪টি ভবনমন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, শেরেবাংলা নগরে প্রায় ৩১ দশমিক ৫১ একর জায়গাজুড়ে নতুন সচিবালয় নির্মাণ করা হবে। সেখানে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনগুলোতে মোট প্রায় ৩২ লাখ বর্গফুট জায়গা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ভবনে মোট প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট জায়গা এবং ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।কমপ্লেক্সে মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতার দুটি বহুমুখী মিলনায়তন, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘরসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্থাপনা থাকবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।কেন স্থানান্তর করা হচ্ছে সচিবালয়?বর্তমান সচিবালয় ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গার ওপর অবস্থিত। সেখানে মোট ১৩টি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে আটটি স্বাধীনতার আগে নির্মিত। সরকারি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পুরোনো ভবনগুলোর কয়েকটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং একটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত। এসব ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করে নির্মাণ করা হয়নি বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।এ ছাড়া বর্তমান সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মপরিসর ও শৌচাগারের সংকট রয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চাহিদা এবং সচিবালয় কমপ্লেক্সের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা প্রয়োজন।এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাব করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রকল্পটির ধারণাগত নকশা তৈরি করেছে।এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ হচ্ছে নতুন নামমন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন অধ্যাদেশ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং এ খাতে বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।রটারডাম কনভেনশনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশবিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।এ কনভেনশনে যুক্ত হলে বিপজ্জনক রাসায়নিকের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিনিময়, রাসায়নিক শনাক্তকরণ ও অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানো এবং এ খাতে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার পথও সুগম হতে পারে।

শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয় স্থানান্তরে মন্ত্রিসভার অনুমোদন