বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংকটের অবসানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা চেয়েছেন তিনি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে অনির্দিষ্টকাল ধরে এই দায়িত্ব বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর রোহিঙ্গা সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ তৈরি করেছে।রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি জানান, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গা সংকটে ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনতে হয়েছে। জাতিসংঘ ও অংশীদারদের ২০২৬ সালের পরিকল্পনাতেও জীবনরক্ষাকারী জরুরি সহায়তার জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, মানবিক সহায়তার ঘাটতি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না এবং বাংলাদেশকে অনির্দিষ্টকাল এই দায়িত্ব বহন করতে বলা যায় না। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো১. দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি।২. মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে নিজ ভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।৩. রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা।৪. আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান জবাবদিহির প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা।৫. মাদক, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও ডিজিটাল প্রতারণাসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের চিরস্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রাখতে চায় না। প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হলে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান বারহাম সালেহর সঙ্গেও বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই: প্রধানমন্ত্রী