মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

শিল্পায়ন ও ছয় লেনের সড়কের ঝুঁকিতে শায়েস্তাগঞ্জ মৎস্য খামার

এক পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, অন্য পাশে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক-২। আশপাশে রয়েছে সিএনজি গ্যাস স্টেশন, ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। দ্রুত শিল্পায়নের এই বাস্তবতার মধ্যে এবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের চাপে পড়েছে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার। প্রকল্পের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ৯১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হলে বিদ্যমান ১১টি পুকুরের মধ্যে দুটি আংশিক এবং দুটি প্রায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় ৬৪ বছরের পুরোনো এই সরকারি প্রতিষ্ঠানের পোনা উৎপাদন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, পোনা পরিবহনের জন্য নিজস্ব গাড়ি ও চালকের অভাব এবং প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম খামারটির কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। মাত্র তিনজন কর্মী দিয়ে চলছে হ্যাচারি পরিচালনা, পুকুরের পরিচর্যা, রেণু ও পোনা উৎপাদন, বিক্রি এবং মৎস্যচাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ।খামারসংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্পায়ন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরকারি এই মৎস্য উৎপাদনকেন্দ্রটির অস্তিত্ব ও কার্যক্রম রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিশেষ করে অধিগ্রহণের ফলে জমি ও পুকুরের যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সমপরিমাণ বিকল্প জমি খামারের অনুকূলে অধিগ্রহণ করা জরুরি।১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা, জমি ছিল ১ হাজার ২৩২ শতাংশখামারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের আমলে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার স্থাপনের জন্য প্রায় ১ হাজার ২৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার।প্রতিষ্ঠার পর থেকে খামারটি হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্যচাষিদের কাছে মাছের রেণু ও পোনা সরবরাহ করে আসছে। বর্তমানে হ্যাচারিসহ ১১টি পুকুরে মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষ করা হচ্ছে। খামার থেকে তুলনামূলক সুলভ মূল্যে রেণু ও পোনা সংগ্রহ করে স্থানীয় চাষিরা বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষ করছেন। পাশাপাশি মাছ চাষের বিভিন্ন সমস্যা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শও নিচ্ছেন তাঁরা।জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, হবিগঞ্জ জেলায় সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার রয়েছে দুটি। শায়েস্তাগঞ্জের পাশাপাশি নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শী এলাকায় প্রায় ২৫ একর জমিতে অবস্থিত আরেকটি খামারে রয়েছে ১৭টি পুকুর।দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য উৎপাদন ও চাষিদের সেবা দিয়ে আসা শায়েস্তাগঞ্জের খামারটি জেলার মৎস্য খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে এর জমি ও উৎপাদন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় মৎস্যচাষিরাও প্রভাবিত হতে পারেন।ছয় লেনের প্রকল্পে অধিগ্রহণের মুখে ৯১ শতাংশ জমিখামারটির সামনে দিয়ে গেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। বর্তমানে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের কারণে খামারের জমি ও অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।খামারসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সড়ক প্রকল্পের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এর ফলে বিদ্যমান ১১টি পুকুরের মধ্যে দুটি আংশিক এবং দুটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে পুকুরের সংখ্যা ও আয়তন কমে যাওয়ার পাশাপাশি হ্যাচারি পরিচালনা, পোনা উৎপাদন এবং খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে।একটি সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের মূল সম্পদ হলো তার জমি, পুকুর, হ্যাচারি ও উৎপাদনব্যবস্থা। এসব অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়ে গেলে শুধু বর্তমান উৎপাদনই নয়, ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনাও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।এ অবস্থায় খামারটির অস্তিত্ব রক্ষা এবং জনকল্যাণে এর অবদান অব্যাহত রাখতে অধিগ্রহণের সমপরিমাণ জমি খামারের অনুকূলে অধিগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, বিকল্প জমি নিশ্চিত করা গেলে পুকুর ও হ্যাচারির কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করে উৎপাদন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।তবে অধিগ্রহণের আওতায় পড়া জমির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও স্থাপনার চূড়ান্ত হিসাব এবং বিকল্প জমির ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রকল্প নকশা ও ভূমি অধিগ্রহণের নথি যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে খামারের উৎপাদন সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখার পরিকল্পনা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।পাঁচ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র তিনজনজমি ও অবকাঠামোর অনিশ্চয়তার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল সংকটেও ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। খামারটির অনুমোদিত জনবল পাঁচজন। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন।খামার ব্যবস্থাপক রনি সাহা গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শায়েস্তাগঞ্জে যোগদান করেন। হ্যাচারি সহচর মো. মিজানুর রহমান ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এবং অফিস সহায়ক মো. মনিরুল ইসলাম ২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।মাত্র তিনজন কর্মীর ওপর নির্ভর করে খামারের নিয়মিত উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুকুরের পরিচর্যা, হ্যাচারি পরিচালনা, রেণু ও পোনা উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিক্রি, চাষিদের পরামর্শ প্রদান এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ সামলাতে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।বিশেষ করে নিরাপত্তা প্রহরীর অভাব খামারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কাজ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নিয়মিত কার্যক্রমের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।খামার ব্যবস্থাপক রনি সাহার মতে, খামারের সার্বিক কার্যক্রম সচল রাখতে শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।নিজস্ব গাড়ি না থাকায় পোনা পরিবহনে সীমাবদ্ধতাখামারটির আরেকটি বড় সমস্যা পোনা পরিবহনের জন্য নিজস্ব গাড়ি ও চালক না থাকা। ফলে দূরবর্তী এলাকার মৎস্যচাষিদের কাছে পোনা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চাষিদের অনেককে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় খামার থেকে পোনা পরিবহন করতে হয়।খামার ব্যবস্থাপক রনি সাহা জানান, শায়েস্তাগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল ও হবিগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন এলাকার মৎস্যচাষিরা এ খামার থেকে রেণু ও পোনা সংগ্রহ করেন। তাঁরা মাছ চাষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শও নেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, পোনা পরিবহনের জন্য গাড়ি ও চালকের ব্যবস্থা করা গেলে দূরবর্তী এলাকার চাষিদের সেবা দেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি সময়মতো পোনা পরিবহন ও সরবরাহের মাধ্যমে খামারের উৎপাদিত পোনার ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।হ্যাচারি সহচর মো. মিজানুর রহমান বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও খামারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও চাষিদের সেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুলমৎস্যচাষিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক মাছ চাষপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দিতে খামারটিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রয়েছে। তবে খামারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান চাহিদার তুলনায় এ কার্যক্রম অপ্রতুল।প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো গেলে আধুনিক চাষপদ্ধতি, পুকুর ব্যবস্থাপনা, মাছের রোগবালাই প্রতিরোধ, পানির গুণগত মান বজায় রাখা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে চাষিদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।এ জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ, উপযুক্ত অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণসামগ্রী নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে খামারটির সেবার পরিধিও বাড়ানো সম্ভব হবে।শিল্পকারখানার শব্দ, কম্পন ও ধোঁয়া নিয়ে উদ্বেগখামারের এক পাশে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক-২ এবং অন্য পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনাও। দ্রুত শিল্পায়নের ফলে যোগাযোগ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি হলেও খামারের পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।হবিগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, পাশের শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতির শব্দ ও কম্পনের কারণে খামারের মাটি ও পুকুরে ঝাঁকুনি সৃষ্টির বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষ্য, কারখানার ধোঁয়া ও তাপমাত্রার প্রভাব মাছের প্রজনন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।তবে এসব কারণে মাছের প্রজনন, পোনার গুণগত মান কিংবা উৎপাদনে বাস্তবে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন। এ জন্য পুকুরের পানির গুণগত মান, তাপমাত্রা, বায়ুর মান এবং কম্পনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো গেলে সম্ভাব্য পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।বছরে প্রায় ১১ লাখ টাকা রাজস্ব জমাসীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার থেকে মাছের রেণু ও পোনা বিক্রির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১১ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। খামারটির রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও প্রায় ১১ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল আলম জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, জনবল ও পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে খামারটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এতে আরও বেশি পরিমাণে রেণু ও পোনা উৎপাদন এবং চাষিদের কাছে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খামারের শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়ন ও পুনরায় কার্যকরভাবে পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।তবে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ কোন পর্যায়ে রয়েছে, কবে নাগাদ শূন্য পদ পূরণ হবে এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে কী পরিমাণ বরাদ্দ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা জানা গেলে খামারটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন বিকল্প জমি ও সমন্বিত উদ্যোগপ্রায় ৬৪ বছরের পুরোনো শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে ছয় লেনের মহাসড়ক প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের আশঙ্কা, অন্যদিকে শিল্পকারখানার সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব। এর সঙ্গে রয়েছে জনবল সংকট, নিজস্ব পরিবহনব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব ও উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষায় কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, সড়ক প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণযোগ্য জমির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর হিসাব প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সমপরিমাণ বিকল্প জমি খামারের অনুকূলে অধিগ্রহণের সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে পুকুর ও হ্যাচারির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায়।পাশাপাশি শূন্য পদ পূরণ, নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ, পোনা পরিবহনের জন্য গাড়ি ও চালকের ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিল্পকারখানার সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণে নিয়মিত পরীক্ষা ও নজরদারিও জরুরি।উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সুরক্ষার সমন্বয় করা গেলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মৎস্য খাতের উৎপাদন ও জনসেবাও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি শুধু একটি সরকারি স্থাপনা নয়; এটি জেলার মৎস্যচাষিদের রেণু ও পোনা সরবরাহ এবং মাছ চাষের পরামর্শ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই ছয় লেনের সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় খামারটির জমি, পুকুর ও উৎপাদনব্যবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সমপরিমাণ বিকল্প জমি নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।

শিল্পায়ন ও ছয় লেনের সড়কের ঝুঁকিতে শায়েস্তাগঞ্জ মৎস্য খামার