জিনপিংকে ট্রাম্পের নৈশভোজে কী ছিল মেনুতে?
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ানের সম্মানে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই নৈশভোজে দুই দেশের প্রতিনিধি, কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা অংশ নেন। নৈশভোজের প্রস্তুতির নেতৃত্ব দেন মেলানিয়া। মেনুতে রাখা হয় মার্কিন উপাদানের সঙ্গে চীনা রন্ধনশৈলীর সূক্ষ্ম সংমিশ্রণ। নৈশভোজের শুরুতে পরিবেশন করা হয় মার্কিন স্পার্কলিং ওয়াইন ‘শ্রামসবার্গ ব্ল্যাঙ্ক ডি নোয়ার’ দিয়ে টোস্ট। ১৯৭২ সালে রিচার্ড নিক্সন ও চৌ এনলাইয়ের ঐতিহাসিক ‘টোস্ট টু পিস’-এর সঙ্গে এই পানীয়ের যোগসূত্র রয়েছে।প্রথম পদে ছিল ইয়েলো স্কোয়াশ ভেলুতে, সঙ্গে বুনো মাশরুম, হার্বস, ক্রিস্পি প্যানসেটা ও স্ক্যালিয়ন অয়েল।দ্বিতীয় পদে পরিবেশন করা হয় তিলের প্রলেপ দেওয়া সি-বাস। এর সঙ্গে ছিল বেবি বক চয়, রোস্টেড বেগুন ও তাজা হার্বসের সস। ডেজার্টে ছিল ভ্যানিলা ক্রেমো, টক চেরি কনফি ও ওয়ালনাট ফ্রাঞ্জিপান। সঙ্গে ছিল হোয়াইট হাউসের নিজস্ব মধু দিয়ে তৈরি আইসক্রিম। নৈশভোজে সংগীত পরিবেশন করেন ক্লাসিক্যাল গায়ক ক্রিস্টোফার ম্যাককিও। পাশাপাশি মার্কিন মেরিন ব্যান্ড, ড্রাম অ্যান্ড বুগল কোর, আর্মি কোরাস ও আর্মি স্ট্রিংসের সদস্যরাও পরিবেশনায় অংশ নেন।সাজসজ্জায় চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাল রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। টেবিল ও হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অংশ সাজানো হয় লাল লিনেন ও ফুল দিয়ে। রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের পরিচিত মুখদের উপস্থিতি ছিল। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন ইলন মাস্ক, টিম কুক, জেনসেন হুয়াং ও স্যাম অল্টম্যানসহ আরও অনেকে।নৈশভোজে মেলানিয়া ট্রাম্পের পোশাকও আলোচনায় আসে। তিনি বড় বো-যুক্ত সাদা ব্লাউজের সঙ্গে কালো টাক্সিডো-ধাঁচের প্যান্ট ও হাই হিল পরেছিলেন। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনমাধ্যমগুলো তার এই পোশাক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরেছিলেন কালো ডিনার স্যুট ও বো-টাই। শি জিনপিং ছিলেন কালো ঝংশান স্যুটে এবং পেং লিয়ুয়ান পরেছিলেন লাল রঙের গাউন।
সব মিলিয়ে খাবার, সাজসজ্জা, সংগীত ও পোশাক সবকিছু মিলিয়ে হোয়াইট হাউসের এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে কূটনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাও গুরুত্ব পেয়েছে।