রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

আবারও উত্তপ্ত মণিপুর! সংঘর্ষে দুই মরদেহ উদ্ধার, নতুন করে ছড়াল আতঙ্ক

জনগণনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনা, নাগা-মেইতেই বিক্ষোভের মধ্যেই পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে রক্তপাত।ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। ২০২৭ সালের জনগণনা কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে রাজ্যটিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও উত্তেজনা কমেনি। এরই মধ্যে কাংপোকপি জেলা থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার এবং নোনে জেলায় সশস্ত্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে সংঘাতকবলিত রাজ্যটি।জনগণনা স্থগিত, তবুও কমেনি উত্তেজনামণিপুরে জনগণনা শুরুর আগে নাগরিকত্ব যাচাই এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিল মেইতেই ও নাগা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।তাদের আশঙ্কা, নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়াই জনগণনা পরিচালিত হলে মিয়ানমার থেকে আসা কথিত অবৈধ অভিবাসীরাও সরকারি জনসংখ্যার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এতে রাজ্যের প্রকৃত জনবিন্যাস, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সম্পদ বণ্টনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি তাদের।এ ছাড়া নির্বাচনি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের আগেও এনআরসি চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল সংগঠনগুলো।এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৭ সালের জনগণনা কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে মণিপুরকে বাদ দিয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রাজ্যটিতে জনগণনা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সিদ্ধান্তটিকে ভূমিপুত্রদের স্বার্থরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।একই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইউনাইটেড মেইতেই-পাঙ্গাল কমিটি। তবে পদক্ষেপটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে কুকি-জো কাউন্সিল।শান্তি ফেরাতে অমিত শাহের কাছে নাগা কাউন্সিলের স্মারকলিপিমণিপুরে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি)।সংগঠনটির অভিযোগ, সংঘর্ষবিরতি চুক্তির সুযোগ নিয়ে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত রয়েছে বলে দাবি তাদের।এ পরিস্থিতিতে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইউএনসি। সংগঠনটি অবৈধ অভিবাসন, মাদক-সন্ত্রাস এবং পৃথক প্রশাসনের দাবিকে মণিপুরের চলমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।এ ছাড়া সীমান্ত ও সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে আসাম রাইফেলস প্রত্যাহার করে সেখানে নিরপেক্ষ অন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের দাবিও জানিয়েছে নাগা সংগঠনটি।নাগা-মেইতেই বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন রক্তপাতএদিকে নাগা ও মেইতেই নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে গত শনিবার ও রবিবার ইম্ফলে বড় ধরনের প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। বিভিন্ন স্থানে বনধও পালিত হয়েছে।এর মধ্যেই রবিবার কাংপোকপি জেলা থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। গত ২৯ অক্টোবর থেকে ওই জেলার দুই কুকি বাসিন্দা নিখোঁজ ছিলেন।নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের সময় মরদেহ দুটি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি প্রশাসন।নোনে জেলায় সশস্ত্র সংঘর্ষ, নিহত ৩ দাবিঅন্যদিকে নোনে জেলার নুঙবা এলাকার তাইজেইকাইফুন গ্রামের কাছে নাগা ভিলেজ গার্ডস (এনভিজি) ও সন্দেহভাজন কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সংঘর্ষে তিন কুকি গ্রামরক্ষী নিহত হয়েছেন। নাগাদের দাবি, নিহতরা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে একে-সিরিজের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।তবে কুকি ইনপি মণিপুর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, নিজেদের গ্রাম ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দেরই প্রতিরোধে নামতে বাধ্য করা হয়েছে।সব মিলিয়ে জনগণনা, নাগরিকত্ব যাচাই, এনআরসি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে মণিপুরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের পাশাপাশি একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় রাজ্যটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।

আবারও উত্তপ্ত মণিপুর! সংঘর্ষে দুই মরদেহ উদ্ধার, নতুন করে ছড়াল আতঙ্ক