সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

ডব্লিউএইচও পদে ভুয়া তথ্যের অভিযোগ, পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) ভুয়া তথ্য প্রদান ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুদকের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।সিভির তথ্য নিয়ে দুদকের আপত্তিদুদক সূত্রে জানা গেছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে জীবনবৃত্তান্তে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ভিত্তিতে কমিশনের সভায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।দুদক সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদে প্রার্থিতার সময় সায়মা ওয়াজেদ তাঁর সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার তথ্য উল্লেখ করেছিলেন।তবে দুদকের অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি সেখানে ওই পদে দায়িত্ব পালন করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগদুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সিভিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জেনেভায় অবস্থিত ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।এ ছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রভাব এবং অভিজ্ঞতা-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ পদটি অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।শিগগিরই আদালতে চার্জশিটদুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, তদন্ত শেষে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে কমিশন। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।আগে মামলা করেছিল দুদকএর আগে, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ রাজধানীর দুদকের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ৫০ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।উল্লেখ্য, চার্জশিট অনুমোদন বা দাখিলের অর্থ আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।

ডব্লিউএইচও পদে ভুয়া তথ্যের অভিযোগ, পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন