বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ
বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে দেশে ক্ষুধা হ্রাসের অগ্রগতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মন্থর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের কৃশতার হার বেড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম এবং ক্ষুধা সূচকে স্কোর ১৯.২। এই স্কোর অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো ‘মাঝারি’ ক্ষুধার শ্রেণিতে রয়েছে।ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশদক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ক্ষুধা সূচকের স্কোর ২৪.১, পাকিস্তানের ২৫.৫ এবং আফগানিস্তানের ২৮.৬। এই তিন দেশই ‘গুরুতর’ ক্ষুধার শ্রেণিতে রয়েছে। অন্যদিকে নেপালের স্কোর ১৪.৫ এবং শ্রীলঙ্কার ১০.২। আঞ্চলিক হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুধা সূচকের স্কোর ২৩.৫। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সংঘাতের প্রভাবে এ অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।শিশুদের কৃশতা বেড়ে ১২.৯ শতাংশপ্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিশুদের কৃশতার হার বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৮ সালে এ হার ছিল ৮.৪ শতাংশ, যা সর্বশেষ মূল্যায়নে বেড়ে ১২.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কৃশতা বলতে শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজনকে বোঝায়, যা তীব্র অপুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।তবে শিশুদের খর্বাকৃতির হার কমেছে। ২০১৮ সালের ২৯.৮ শতাংশ থেকে তা কমে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অপুষ্টিতে ভোগা জনসংখ্যার অনুপাত ১২.১ শতাংশ থেকে কমে ৮.২ শতাংশ হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহারও ৩.৩ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে নেমেছে।দুই দশকে অপুষ্টি মোকাবিলায় অগ্রগতিপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সালে বাংলাদেশে শিশুদের খর্বাকৃতির হার ছিল ৫৪.৯ শতাংশ। সর্বশেষ মূল্যায়নে তা কমে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নারীর শিক্ষার প্রসার, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও ২০১৮ সালের পর অগ্রগতি সীমিত হয়েছে। ২০১৮ সালের ২০ থেকে ২০২৬ সালে স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৯.২-এ অর্থাৎ উন্নতি হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ।দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগেছে। বিশ্বজুড়ে অপুষ্টিতে থাকা মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ অঞ্চলের।অতিবৃষ্টি, বন্যায় ফসলের ক্ষতি, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও প্রতিকূল আবহাওয়া খাদ্যসংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।যেভাবে পরিমাপ করা হয় ক্ষুধা সূচকবিশ্ব ক্ষুধা সূচক নির্ধারণ করা হয় চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে—- জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার- শিশুদের কৃশতার হার- শিশুদের খর্বাকৃতির হার- পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহারসূচকে স্কোর যত কম, ক্ষুধার তীব্রতা তত কম বলে বিবেচিত হয়।‘খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নেই’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২০২৬ সালের প্রতিবেদনটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের শান্তি ও সংঘাতবিষয়ক আইন ইনস্টিটিউট এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা হেলভেটাস।